নগরে বিলবোর্ড উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। প্রথমদিন গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কাজীর দেউরিতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সীমানা সংলগ্ন সড়কের উপর স্থাপিত একটি বিলবোর্ড উচ্ছেদ করা হয়। এসময় বিলবোর্ডের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদন ছাড়া স্থাপিত ব্যানার–পোস্টারও অপসারণ করা হয়।
উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন স্বয়ং সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। আজাদীকে তিনি বলেন, বিলবোর্ড উচ্ছেদে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কাউকে বিলবোর্ড স্থাপনে অনুমতিও দেবে না কর্পোরেশন। এর আগে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, কোনো ধরনের বিলবোর্ড শহরে থাকবে না। নির্বাচনকালীন কেউ আমাদের সঙ্গে কথা না বলে করে ফেলেছে। আমরা এখন এগুলো দেখতে পাচ্ছি। এগুলো কারা করেছে, তাদের আমরা সন্ধান করছি। যেহেতু এখনো শনাক্ত করতে পারিনি আমরা নিজেরাই কেটে ফেলছি।
ডা. শাহাদাত বলেন, ঢাকাসহ অন্যান্য শহরে যেভাবে আছে ডিজিটাল সাইনবোর্ড ও এলইডি, এগুলো আমরা অনুমোদন দেব। এ ধরনের বড় বিলবোর্ড যেগুলো সৌন্দর্যহানি করছে, এ রকম কোনো কিছু আমরা শহরে অ্যালাউ করব না। যেখানে যেখানে করা হয়েছে প্রতিটি জায়গা থেকে উচ্ছেদ করা হবে।
তিনি বলেন, বিলবোর্ড উচ্ছেদে কোনো ধরনের রাজনীতি, কোনো পলিটিক্যাল মাসলম্যান বা পাওয়ারম্যান এখানে কোনো কিছু করতে পারবে না। আপনারা দেখেছেন, কোনো জায়গায় আমি কমেপ্রামাইজ করিনি। এখানে কোনো চাপ নেই। আমাদের যদি সদিচ্ছা না থাকত, আমরা উচ্ছেদ করতাম না।
মেয়র চট্টগ্রাম শহরকে পরিকল্পিত, দৃষ্টিনন্দন ও পরিচ্ছন্ন মহানগর হিসেবে গড়ে তুলতে বিলবোর্ড ও অবৈধ বিজ্ঞাপন স্থাপনার বিরুদ্ধে নিজের কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন বলেন, নগরজুড়ে অনুমোদনহীন বিলবোর্ড, ব্যানার ও পোস্টার অপসারণে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রামকে বিলবোর্ডমুক্ত করা হবে। মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম শহরকে বিলবোর্ডের জঞ্জাল থেকে মুক্ত করতে আমরা সমন্বিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগ নিয়েছি। নগরের সৌন্দর্য রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের অগ্রাধিকার। অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিলবোর্ড স্থাপন করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চসিকের জনসংযোগ শাখা থেকে জানানো হয়, গতকাল বৃহষ্পতিবার সকালে বিলবোর্ড উচ্ছেদ প্রসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশনা প্রদান করেন। এর প্রেক্ষিতে কাজীর দেউরীতে অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। অভিযানটি সমন্বয় করে সিটি কর্পোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেট, প্রকৌশল বিভাগ, পরিচ্ছন্নতা বিভাগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোয়েব উদ্দিন খান, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাশ, উম্মে কুলসুম, শাহরীন ফেরদৌসী, রক্তিম চৌধুরী, প্রণয় চাকমা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতি সর্ববিদ্যা।












