চট্টগ্রামে চলমান বন্যা, জলাবদ্ধতা ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গ্রহণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরীর মুরাদপুরে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। অপরদিকে বিক্ষোভের একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ শিক্ষা বোর্ডের প্রধান গেটটি ভেঙে ফেলে এবং গেটটি কাঁধে তুলে নিয়ে যান। পরে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ গেট ভাঙার প্রতিবাদ করেন। গেটটি রাস্তার বাইরে নিয়ে দূরে ফেলে দেওয়া হয়। ওখান থেকে বোর্ডের কর্মচারীরা পরে গেটটি তুলে আনেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে শহরের অন্যতম ব্যস্ত এই সড়কের এক পাশে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে করে মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, জিইসিসহ সন্নিহিত এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, টানা ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়ায় বহু শিক্ষার্থীর ক্ষতি হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, দুর্যোগ পরিস্থিতির বাস্তবতা বিবেচনা না করেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ। শিক্ষার্থীরা দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা, ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যারা অংশ নিতে পারেননি তাদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং প্রশ্নপত্রে ভুল ও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানিয়ে তিন দফা দাবি উপস্থাপন করেন। আবার অপর অংশ শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করে ৭ দফা দাবি উপস্থাপন করেন।
বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং হাতে দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি মেনে নেওয়া না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে ৭ দফার স্মারকলিপি দেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী আজাদীকে বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের সঙ্গে মিটিং করেছেন। তাদের দাবি পেশ করেছেন। আমরা তাদের দাবির বিষয়ে আলোচনা করেছি। হঠাৎ কিছু বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী বোর্ডের প্রধান ফটক নিয়ে টানাটানি করে। একপর্যায়ে তারা গেট খুলে নিয়ে যায়। গেট ভাঙা নিয়ে তাদের মধ্যে একটি গ্রুপ প্রতিবাদ করে। তারা গেটটি বাইরে এনে রাস্তায় ফেলে দিয়ে চলে যায়। আমাদের কর্মচারীরা সেটি তুলে নিয়ে এসেছে। পরীক্ষা নিয়ে সরকার যা সিদ্ধান্ত নেবে বোর্ড তা বাস্তবায়ন করবে বলে জানান তিনি।











