চকরিয়ায় নিজের পরিবারের সদস্যের মতো লালন-পালনের মাধ্যমে বড় করে তোলা পোষা বিড়াল পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক নারীর বিরুদ্ধে।
এমন অভিযোগ এনে ওই নারীর উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে আস্ত থানায় যান বিড়ালের মালিক। এ সময় তার হাতে থাকা লোহার খাঁচার ভেতর ছিল মারা পড়া বিড়ালটিও। আজ সোমবার দুপুরে পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের কাজীর পাড়ার শামসুল আলম তাঁর পোষা বিড়ালের মরদেহ নিয়ে প্রতিবেশী ফরিজা বেগমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ নিয়ে হাজির হন থানায়।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রতিবেশী ফরিজা বেগম বাড়ির পেছনের খোলা জায়গায় ওই বিড়ালকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
থানায় দায়ের করা অভিযোগে দাবি করা হয়েছে- শামসুল আলম দীর্ঘদিন ধরে বিড়ালটিকে অনেক দিন ধরে যত্ন-আত্তির মাধ্যমে লালন-পালন করে আসছিলেন। সোমবার সকালে তিনি নিজের পালিত ছাগল বাড়ির পেছনের একটি খালি জায়গায় চারণের জন্য বেঁধে দিতে গেলে বিড়ালটিও তাঁর পেছনে ছুটে যায়।
এ সময় প্রতিবেশী ফরিজা বেগমের পোষা কুকুরটি বিড়ালকে কামড় দেওয়ার চেষ্টা করে। শামসুল আলম কুকুরটিকে ধাওয়া দিয়ে তাড়িয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফরিজা বেগম লাঠি নিয়ে এসে বিড়ালটিকে এলোপাতাড়ি পেটান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে গুরুতর আহত হয়ে বিড়ালটি মারা যায়।
ঘটনায় ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বিড়ালের মালিক শামসুল আলম বলেন, এই বিড়াল আমার সন্তানের মতো। তাই এটি শুধু বিড়াল নয়। কিন্তু কোনো অপরাধ ছাড়াই ওকে এভাবে নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলা হলো। যা আমি কোনভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু সমাধানসহ বিড়াল হত্যায় জড়িত নারীর কঠিন শাস্তি চাই। যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ কোন অবলা প্রাণীর প্রতি এমন আচরণ করার সাহস না দেখায়।
তবে এই বিষয়ে অভিযুক্ত নারী ফরিজা বেগমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, কোন অবলা প্রাণী হত্যা করাও আইনগত অপরাধ। তাই পোষা প্রাণী হত্যার ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে ঘটনায় জড়িত নারীর বিরুদ্ধে।











