কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীর তীর সংলগ্ন তামাক ক্ষেতে পড়ে থাকা এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। খুনের শিকার যুবকের নাম রাকিবুল ইসলাম (১৮)। তিনি হাজিয়ান গ্রামের আলীপাড়া এলাকার কফিল উদ্দিনের ছেলে এবং চকরিয়া উপজেলার একটি ফুচকার দোকানে কাজ করতেন। পুলিশের ধারণা, তাকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের দাবি– বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার সকালে স্থানীয় এলাকাবাসী বেড়িবাঁধের পাশে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। চকরিয়া থানার উপ–পরিদর্শক (এসআই) ফরিদ হোসেন রাকিবুলের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। তিনি জানান, মরদেহের ডান হাতে পোড়া দাগ রয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন অংশে বিদ্যুতের শক দেওয়ার মতো কিছু আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার পর লাশ তামাকক্ষেতে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা, দুর্বৃত্তরা তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে সেখানে লাশ ফেলে যায়। তবে সঠিক কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ ও পরিবার। নিহত রাকিবুল ইসলামের মা রাবেয়া বেগম বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে দুইজন ব্যক্তি বাড়িতে এসে ছেলে রাকিবকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর আর ঘরে ফেরেনি। আজ (বুধবার) সকালে তামাক ক্ষেতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে খবর দেয় লোকজন। আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্তপূর্বক গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় লাশ উদ্ধার এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কঙবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ওসি–চকরিয়া আরও বলেন, এখনো পর্যন্ত হত্যার নির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। তবে পুলিশ হত্যার কারণ উদঘাটনে কাজ করছে।













