বাংলাদেশে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় মোখা আঘাত হানবে এমন খবরে ব্যাপক সচেতন হয়েছে উপকূলের মানুষ। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের মহাপ্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতির চিত্র মাথায় রেখে এবার নানা প্রস্তুতি লক্ষ্য করা গেছে উপকূলবাসীর মাঝে।
উপকূলবাসীর ভাষ্য, ঘূর্ণিঝড় মোখার বিষয়ে তারা যথেষ্ট সচেতন আছেন। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর যতক্ষণ পর্যন্ত বিপদ সংকেত ঘোষণা করছেন না, এর আগ পর্যন্ত ঘরবাড়ি ছেড়ে সাইক্লোন শেল্টারমুখী হবেন না লোকজন। এজন্য বিপদ সংকেত ঘোষণার দিকেই চেয়ে আছেন তারা।
গতকাল শুক্রবার রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে ঘূর্ণিঝড় মোখার অবস্থান পরবর্তী ৮ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ ঘোষণার পর কঙবাজারের চকরিয়ার উপকূলীয় বদরখালী, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া, পশ্চিম বড় ভেওলা, সাহারবিল, পূর্ব বড় ভেওলা, বিএমচর, চিরিঙ্গা, ডুলাহাজারা, খুটাখালীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের উপকূলীয় এলাকার লোকজন আশ্রয় কেন্দ্রে আসা শুরু করেছেন।
বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূরে হোছাইন আরিফ দৈনিক আজাদীকে বলেন, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল রাতে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় হ্যারিকেনের ক্ষয়ক্ষতির কথা সবারই জানা। তাই এখানকার মানুষ অনেক সচেতন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় আঘাত যখন হেনেছিল, তখন যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল একেবারেই অনুন্নত। তাছাড়া সাইক্লোন শেল্টার বলতে কিছুই ছিল না। তবে আগেকার সেই অবস্থা এখন আর নেই। বর্তমানে বদরখালীতে অসংখ্য সাইক্লোন শেল্টার, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থাও হয়েছে বেশ উন্নত। তাই বিপদ সংকেত পাওয়ার সাথে সাথেই এখানকার মানুষ সাইক্লোন শেল্টারমুখী হচ্ছেন। এজন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে উপকূলজুড়ে।
ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) চকরিয়া উপজেলার টিম লিডার ও পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা দৈনিক আজাদীকে বলেন, প্রতি টিমে ২০ জন করে সিপিপি সদস্যের সমন্বয়ে ৭০টি টিমের ১৪০০ সদস্য উপজেলাজুড়ে মাঠে তৎপর রয়েছে। তারা জনগণকে সচেতন করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। আশা করছি, আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিপদ সংকেত পাওয়ার সাথে সাথে উপকূলে বসবাসরত জনগণকে সঠিক সময়ে সাইক্লোন শেল্টারে নিয়ে আসা সম্ভব হবে।
এদিকে গতকাল দুপুরে চকরিয়া উপকূলীয় বদরখালী, পশ্চিম বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালীসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের সার্বিক চিত্র সরজমিন প্রত্যক্ষ করেছেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাহাত উজ–জামান। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন দিক–নির্দেশনাও প্রদান করেন ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলা করণীয় সম্পর্কে।
এই বিষয়ে তিনি দৈনিক আজাদীকে বলেন, চকরিয়ার উপকূলে বসবাসকারী লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনার জন্য ৯৮টি সাইক্লোন শেল্টার, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উঁচু ভবনকে শতভাগ প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। সেখানে মজুদ করা হয়েছে প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার, সুপেয় পানিসহ যাবতীয় সবকিছুই। এতে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলেও জানমালের কোনো ক্ষতি হবে না। পাশাপাশি গবাদী পশুর নিরাপদ আশ্রয়ের জন্যও উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর ৭টি মুজিবকিল্লাহকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।










