চকরিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের পানিতে জাইকার ড্রেনের কাজ বন্ধ

বিপাকে শ্রমিকেরা, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

চকরিয়া প্রতিনিধি | রবিবার , ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভায় জাইকার অর্থায়নে নির্মিত মাস্টার ড্রেন প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে মাতামুহুরী নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালুর পানিতে। এতে অর্ধশত শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় কাজ বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ড্রেনের উপকারভোগী এলাকাবাসী।

সরেজমিন দেখা গেছে, প্রকল্প এলাকা পৌরসভার জালিয়া পাড়ার মাতামুহুরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি চক্র। এতে ড্রেজারের বালুর সঙ্গে উঠে আসা পানি ছড়িয়ে পড়ায় তলিয়ে গেছে চলমান জাইকার ড্রেনেজ উন্নয়ন কাজের অবকাঠামো।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানান, গতকাল শনিবার ভোরে কতিপয় বালুখেকোচক্র তাদের উত্তোলিত বালু থেকে নিঃসৃত পানিতে কাজের স্থানটি তলিয়ে যাওয়ার কারণে উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা সারাদিন কাজ করতে পারেনি। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, জাইকার অর্থায়নে চকরিয়া পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড জালিয়াপাড়া অংশে ১৩’শ মিটার দৈর্ঘ্যের আধুনিক মানের মাস্টার ড্রেন এবং ৪০০ মিটার প্রতিরক্ষা ব্লক স্থাপনের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইমু কন্সট্রাকশন ব্যাপকভাবে উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

জাইকার উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত শ্রমিক মাঝি মনোয়ার হোসেন বলেন, শনিবার ভোরে পাশের বালু পয়েন্ট থেকে গলে পড়া পানিতে আমাদের কাজের স্থানটি ডুবে গেছে। এই অবস্থার কারণে উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার সারাদিন কাজ করতে পারেনি আমাদের ৪২ জন শ্রমিক। তিনি বলেন, ঘটনাটি সকালে চকরিয়া পৌরসভার প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। তার নির্দেশে একজন উপ–সহকারী প্রকৌশলী ঘটনাস্থলে এসে কাজের পরিস্থিতি দেখে গেছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, চকরিয়া পৌরসভার জালিয়াপাড়া অংশে চলমান মাস্টার ড্রেন উন্নয়ন কাজের একেবারে লাগোয়া কতিপয় লোকজন মাতামুহুরী নদী থেকে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। বালু থেকে গলে পড়া পানিতে উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে পড়ার কারণে এলাকাবাসীর মনে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে চকরিয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, জাইকার অর্থায়নে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজটি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট। তাই বিষয়টি খোঁজ–খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধফটিকছড়িতে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস
পরবর্তী নিবন্ধচলতি বছর নিপা ভাইরাসে দেশে প্রথম মৃত্যু