ঘুমন্ত অসহায়দের গায়ে নিজ হাতে কম্বল দিলেন ডিসি

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ২ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ৬০০ জন ফুটপাতের অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনে যখন ব্যস্ত নগরীর একাংশ, ঠিক তখনই গভীর রাতে নগরীর দামপাড়া গরীবউল্লাহ মাজার এলাকা, ষোলশহর রেলস্টেশন, মুরাদপুর, চকবাজার ও চেরাগী পাহাড় মোড়, লালদিঘী এলাকা এবং জেল রোডের আমানত শাহ মাজার এলাকায় জেলা প্রশাসক ছুটে গিয়ে শীতার্ত গরিবদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন।

জেলা প্রশাসন জানায়, শীতার্ত মানুষের মাছে শীতবস্ত্র বিতরণ করতে গিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জেলা প্রশাসক। নগরীর ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশনে শীতবস্ত্র বিতরণের সময় তার দৃষ্টি পড়ে শীতার্ত দুই পথশিশুঝুমুর ও শাহীনের ওপর। শীতের কনকনে রাতে কাঁপতে থাকা শিশু দুটিকে দেখে থমকে দাঁড়ান তিনি। দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তাদের সঙ্গে। পরে নিজ হাতে দুই শিশুর গায়ে কম্বল জড়িয়ে দেন। রাতে কী খেয়েছে জানতে চাইলে ঝুমুর ও শাহীন জানায়, টাকার অভাবে সেদিন তারা কিছুই খেতে পারেনি। বিষয়টি শুনে মানবিক ডিসি তাৎক্ষণিকভাবে তাদের রাতের খাবারের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। শুধু এই দুই পথশিশুই নয়, নগরীর মহসীন কলেজ এলাকায় ফুটপাতে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত শারীরিক প্রতিবন্ধী আব্দুল মজিদ এবং তার সাত বছর বয়সী কন্যা ইয়াসমিনের দিকেও নজর যায় জেলা প্রশাসকের। কঙবাজারের টেকনাফ থেকে আসা এই বাবামেয়ের আশ্রয় বলতে ফুটপাতে পাতা একটি পাতলা পুরোনো কম্বল। ইয়াসমিনের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে জেলা প্রশাসক তার বাবার কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নোট করেন এবং স্থায়ী পুনর্বাসনের লক্ষ্যে তাদের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসতে অনুরোধ জানান। আব্দুল মজিদ জানান, তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারেন না। মহসীন কলেজের সামনে বসে ভিক্ষা করে যে অর্থ পান, তা দিয়েই মেয়েকে নিয়ে কোনোমতে দিনযাপন করেন। প্রতিদিন ৫০ টাকায় আলুভর্তা, ডাল ও ভাত কিনে খেতে হয়। মেয়ের মাছ বা মাংস খাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও তা পূরণ করতে পারেন না। কোনো কোনো দিন কেউ বেশি সাহায্য করলে মেয়ের জন্য একটু ভালো খাবার কিনে দেন। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় জীবনযাপন করা এই বাবামেয়ের ভবিষ্যৎ পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন জেলা প্রশাসক। তিনি আব্দুল মজিদকে নিজের ফোন নম্বর দিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে বলেন এবং আগামী বুধবার অফিসে আসতে অনুরোধ জানান। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আমার নিজেরও একটি মেয়ে আছে। শীতার্ত ইয়াসমিনকে দেখে আমার নিজের সন্তানের নিষ্পাপ মুখটি চোখের সামনে ভেসে উঠেছে। শুধু জেলা প্রশাসক হিসেবে নয়, একজন পিতা হিসেবেও আমার মনে হয়েছেএই শিশুটির জন্য কিছু করা উচিৎ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহাটহাজারীতে উল্টো পথে আসা মোটরসাইকেলের ধাক্কায় কিশোরের মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধপুকুরিয়ায় পুকুর থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার