গ্রেপ্তার ২২, তিন মামলা, অস্ত্র ও অপরাধীদের নজরদারি কার্যক্রমে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ১১ মার্চ, ২০২৬ at ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ

সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যখ্যাত সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর থেকে অবৈধ অস্ত্রশস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় তিনটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযানকালে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। গতকাল সকালে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা তিনটি রেকর্ড করা হয়। পুলিশ ও র‌্যাব বাদী হয়ে মামলাগুলো রেকর্ড করে।

পুলিশ জানিয়েছে, জঙ্গল সলিমপুর থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র (একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় পিস্তল ও একটি এলজি), ২৭টি পাইপগান, ৩০টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, অস্ত্র তৈরির ৫৭টি পাইপ, ৬১টি কার্তুজ এবং বিভিন্ন ধরনের এক হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ১১টি ককটেল, পাইপগান তৈরির লেদ মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ১৯টি সিসি ক্যামেরা, তিনটি ডিভিআর, একটি পাওয়ার বক্স এবং দুটি বাইনোকুলার উদ্ধার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, এসব সরঞ্জাম অপরাধীদের নজরদারি

কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো।

এই অস্ত্রবিস্ফোরকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে তিনটি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলা পুলিশ এবং একটি মামলা র‌্যাব বাদী হয়ে রেকর্ড করে। জঙ্গল সলিমপুর থেকে গ্রেপ্তার মোট ২২ জনকে মামলাগুলোতে আসামি করা হয়েছে। তাদেরকে গতকাল দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত ২২ জনকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছে।

এদিকে সোমবারের অভিযান সম্পর্কে গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যৌথ অভিযানে আলীনগর এলাকার বিভিন্ন পাহাড়ে অবস্থিত সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও অস্ত্র তৈরির কারখানাসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি আলীনগরের বিভিন্ন প্রবেশপথ ও পাহাড়ের চূড়ায় স্থাপিত ওয়াচ টাওয়ারগুলোর কার্যক্রমও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এসব ওয়াচ টাওয়ার ব্যবহার করে অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আসাযাওয়া পর্যবেক্ষণ করত। অভিযান চলাকালে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং সার্বিক পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে, অপরাধীদের নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অবৈধ অস্ত্র মজুদ, পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি, অপরাধীদের আশ্রয়স্থল তৈরি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার ভোর ৫টা থেকে জঙ্গল সলিমপুরে চট্টগ্রামের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অভিযান পরিচালিত হয়। পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে সেনাবাহিনীর ৪৮৭ জন সদস্য, জেলা পুলিশের ১৪৬ জন সদস্য, সিএমপির ৮০০ জন সদস্য, আরআরএফ চট্টগ্রামের ৪০০ জন সদস্য, ফেনী জেলা পুলিশের ১০০ জন সদস্য, পার্বত্য জেলার ৩০০ জন সদস্য, এপিবিএনের ৩৩০ জন সদস্য, বিজিবি ১২২ জন সদস্য এবং র‌্যাবের ৩৭১ জন সদস্যসহ মোট ৩ হাজার ১৮৩ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য অংশ নেন। এছাড়া সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযানকালে চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন উপস্থিত থেকে অভিযান তদারকি করেন।

অভিযানকে কার্যকর করতে তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি (আর্মড পার্সোনেল ক্যারিয়ার), র‌্যাব ও সিএমপির তিনটি ডগ স্কোয়াড এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসন্ত্রাসী আস্তানা, অস্ত্র তৈরির কারখানা ও ওয়াচ টাওয়ার ধ্বংস
পরবর্তী নিবন্ধদোলনায় খেলছিল শিশুটি, গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মৃত্যু