কঙবাজারের টেকনাফে মিয়ানমার থেকে ছুটে আসা গুলিতে গুরুতর আহত শিশু হুজাইফা আফনানের (৯) অবস্থা এখনো অপরিবর্তিত। গত মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত মতে–শিশু হুজাইফাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় সেখান থেকে শিশুটির চাচা শওকত আলী দৈনিক আজাদীকে বলেন, আমার ভাতিজির অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। ডাক্তাররা চিকিৎসা দিচ্ছেন। তবে আমাদেরকে তেমন কোনো আশার কথা শুনাচ্ছেন না। তার অবস্থা চট্টগ্রামের মতোই। আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। চট্টগ্রামে চিকিৎসা করাতে গিয়ে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে এখানে সব খরচ সরকার বহন করছে। এটি আমাদের জন্য স্বস্তিদায়ক। কারণ চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করাটা আমাদের জন্য সতিই কঠিন ছিল।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক বদরুল আলম গতকাল রাতে একটি অনলাইন গণমাধ্যমে বলেন, যে অবস্থায় তাকে আনা হয়েছে, তার কোনো অবনতি হয়নি। তবে উন্নতির আশা আছে। শিশুটির জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখেছে, এই মুহূর্তে মাথায় থাকা গুলিটি বের করা সম্ভব নয়। এর মধ্যে আবার স্ট্রোকও করেছিল। তবে তার উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক হলে সম্ভাবনার বিষয়টি বলা মুশকিল ছিল। আমরা হুজাইফার মাথার খুলিটি আলাদা করেই রেখেছি।
উল্লেখ্য, গত রোববার সকাল ১০টার দিকে হোয়াইক্যং এলাকার তেচ্ছা ব্রিজের কাছে গুলিবিদ্ধ হয় হুজাইফা। গুলিবিদ্ধ হওয়া শিশুটি মারা গেছে বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানালেও পরে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। ওইদিন রোববার দিবাগত রাত ১ টা থেকে ভোর রাত ৪ টা পর্যন্ত মাথায় অস্ত্রোপাচার করেও গুলিটি বের করতে পারেননি নিউরো সার্জনরা। গুলিটি শিশুটির মাথার গভীরে ঢুকে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে জানান চিকিৎসকরা। পরবর্তীতে মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফা মাছ ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনে বড় মেয়ে। তিন ভাই বোনের মধ্যে হুজাইফা সবার বড়। সে স্থানীয় হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী।












