গুপ্তছড়া ঘাটে সাগরে যাত্রী নিখোঁজ, তারপর যা হলো

সন্দ্বীপ প্রতিনিধি | রবিবার , ২১ আগস্ট, ২০২২ at ৪:৪৫ পূর্বাহ্ণ

সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটে সার্ভিস বোট (যাত্রীবাহী ট্রলার) থেকে লালবোটে (লাইফ বোট) নামতে গিয়ে মাস্টার আবদুল মন্নান (৬৪) নামে এক যাত্রী নিখোঁজ হয়েছেন। সীতাকুণ্ডের কুমিরা ঘাট থেকে ছেড়ে আসা সার্ভিস বোটটি শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে গুপ্তছড়া ঘাটে পৌঁছায়। এ সময় দুর্ঘটনা ঘটে বলে লালবোটে থাকা যাত্রীরা জানিয়েছেন। তার বাড়ি সন্দ্বীপের মগধরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে। তবে গুপ্তছড়া ঘাটের ম্যানেজার মানিক জানান, ওই যাত্রী ট্রলার থেকে পড়ে যাওয়ার পর সাঁতার কেটে তীরে পৌঁছে গেছেন। ফুয়াদ নামে একজন ওই যাত্রীকে গুপ্তছড়া ব্রিজের উপরে দেখেছেন।
এদিকে মিথ্যা তথ্য দেয়ায় আবদুল কাদের নামে লালবোটের এক মাঝিকে আটক করা হয়েছে। স্বামীর নিখোঁজের ঘটনায় মন্নানের স্ত্রী গতকাল সন্দ্বীপ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আর সন্দ্বীপের ইউএনও সম্রাট খীসা আজাদীকে জানিয়েছেন, নিখোঁজ মাস্টার মন্নান সম্পর্কে উড়িরচরসহ সম্ভাব্য স্থানে কোস্টগার্ডকে অবহিত করা হয়েছে।
সন্দ্বীপের মগধরা ইউনিয়নের পেলিশ্যার বাজারের পাশে পেলিশ্যার গো বড় বাড়ির পারুল বেগম আজাদীকে জানান, মাস্টার আবদুল মন্নান ট্রলারে ওঠার পর সকাল ১০টায় তার সঙ্গে যোগাযোগ হয়। এ সময় মন্নান তাকে বলেন তিনি এ মুহূর্তে ট্রলারে আছেন। গুপ্তছড়া বাজারে এলে তার সঙ্গে দেখা হবে।
প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রী তানভীর মাহমুদ ফেইসবুকে প্রথম পোস্ট করেন, গুপ্তছড়া ঘাটে একজন যাত্রী সার্ভিস বোট থেকে লালবোটে নামতে গিয়ে সাগরে পড়ে গেছেন। কুমিরা ঘাট থেকে সকাল ৯টার দিকে একটি সার্ভিস ট্রলার যাত্রী নিয়ে সন্দ্বীপের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সার্ভিস বোটটি সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটে এসে পৌঁছায়। সন্দ্বীপ চ্যানেল উত্তাল ছিল। সার্ভিস বোটটি উপকূলের বাইরে নোঙর করে। এ সময় যাত্রী নামানোর জন্য তিনটি লালবোট আসে। দুটি লালবোটে যাত্রী উপকূলে পৌঁছায়। তৃতীয় বোটে প্রথমে তারা চারজন যাত্রী নামেন। এরপর ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নামার সময় ঢেউয়ের কারণে লালবোটটি সার্ভিস ট্রলার থেকে কিছুটা দূরে সরে যায়। এতে তিনি সাগরে পড়ে যান। অন্য যাত্রীরা তাকে উদ্ধারে চিৎকার করলেও লালবোটের শ্রমিকেরা এগিয়ে আসেননি। ফলে লোকটি ডুবে যান। অনেকক্ষণ পর লালবোটের লোকজন নিখোঁজ লোকটিকে খুঁজতে শুরু করেন। তিনি সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ঘাটে ছিলেন, তখনো উদ্ধার হননি ওই বৃদ্ধ।
নিখোঁজ মাস্টার আবদুল মন্নানের স্ত্রী শেফা বেগম আজাদীকে জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টায় স্বামীর সঙ্গে তার কথা হয়। এ সময় তিনি সন্দ্বীপ আসার কথা জানান। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। বিকালের মধ্যে বাড়িতে ফিরে না আসায় তারা চট্টগ্রামে নিকট আত্মীয়দের বাসায় খোঁজ নিয়ে জানেন স্বামী ওখানে নেই। প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জানতে পারেন গুপ্তছড়া ঘাটে একজন বয়স্ক লোক সাগরে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন। পরে সন্ধ্যায় তিনি গুপ্তছড়া বাজারে এসে স্বামীর খোঁজ নেন। তবে এখনো খোঁজ পাননি।
এদিকে শুক্রবার রাতে লালবোটের মাঝি আবদুল কাদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে ইউএনও সম্রাট খীসাকে জানান, নদীতে পড়ে যাওয়া যাত্রীকে তারা নিরাপদে কূলে তুলে দিয়েছেন। তবে গতকাল শনিবার দুপুর ১টার দিকে সেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ধারণকারী তানভীর মাহমুদ নামে লালবোটের এক যাত্রীকে ইউএনও কার্যালয়ে ডাকা হয়। এ সময় তানভীর ঘটনার বর্ণনা দেন এবং তার ধারণ করা ভিডিও ও ছবি দেখে ইউএনও অসত্য তথ্য দেয়ায় লালবোটের মাঝিকে তার কার্যালয়ে ডেকে আনেন। এ সময় ইউএনওর জেরার মুখে কাদের মাঝি বলেন, উক্ত যাত্রী তার লালবোট থেকে পড়েনি।
ইউএনও সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। কিন্তু তথ্য গোপন করা ও অসত্য তথ্য প্রদান করা অপরাধ। আমাদেরকে ঠিক সময়ে জানালে কোস্টগার্ডের সাহায্য নিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে পারতাম। এ সময় তিনি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাঝিকে আটক করতে থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসীতাকুণ্ডে শিপ ইয়ার্ড দখলের অভিযোগ, থানায় ২ মামলা
পরবর্তী নিবন্ধএক টুকরা পচা ফ্রাই ইলিশ ২৫০ টাকা!