গভীর রাতে ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টা বাস সুপারভাইজারের মৃত্যু

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ১৫ জুলাই, ২০২২ at ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ

নগরীর শাহ আমানত ব্রিজ এলাকায় নুরুল ইসলাম নাহিদ (৪০) নামে হানিফ পরিবহনের এক সুপারভাইজারের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) সকাল সোয়া ৬টার দিকে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নাহিদ চকরিয়া উপজেলার কাকারা গ্রামের আকবর আহমদের ছেলে। নগরের চান্দগাঁওয়ের শামসুর কলোনির চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় থাকতেন তিনি। চমেক হাসপাতালে আনয়নকারী সিএনজি টেক্সি চালক মো. আরিফের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, শাহ আমানত ব্রিজ এলাকার কর্ণফুলী নদীর পাশে ২৫ ও ২৭ বছর বয়সী দুই যুবক সিএনজি টেক্সি থামিয়ে এক অসুস্থ রোগীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা জানায়। চালক হ্যাঁ সূচক জবাব দিলে ওই দুই যুবক একটি নৌকা থেকে জ্ঞানহীন অবস্থায় এক ব্যক্তিকে গাড়িতে তোলে। ওই সময় ওই ব্যক্তির শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখা গেছে। সিএনজি চালক আরিফ পুলিশকে আরো জানান, টেক্সিটি বহদ্দারহাট এক কিলোমিটার আসার পর আগে থেকে অপেক্ষায় থাকা এক নারী ও তার ৮ বছরের (আনুমানিক) মেয়ে ওই সিএনজিতে ওঠেন। পরে নতুন চান্দগাঁও থানা এলাকায় ওই দুই ব্যক্তি নেমে যান এবং অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে সিএনজি চালককে বলেন। পরে মা-মেয়েসহ অসুস্থ ওই ব্যক্তিকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাদেকুর রহমানও ঘটনার এ বর্ণনার সাথে সহমত পোষণ করে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে- নিহত নুরুল ইসলামকে বৈদ্যুতিক শক ও পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালে মর্গে রাখা হয়েছে।
এ দিকে বাকলিয়া থানার ওসি মো. আব্দুর রহিম দাবি করেন, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে নাহিদ জখম হয়েছিলেন। তার বাসা নগরীর চান্দগাঁও থানার চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায়। তবে তিনি তার স্ত্রীকে বলেছিলেন যে কক্সবাজার যাচ্ছেন।
নাহিদের স্ত্রীর বরাত দিয়ে ওসি বাকলিয়া জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে দুই ব্যক্তি বাসায় গিয়ে নাহিদ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে জানিয়ে স্ত্রী আনোয়ারাকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে রওনা দিয়েছিল। তাদের একজন ওসমানকে আনোয়ারা চিনে ফেলায় মাঝপথেই দুজন সিএনজি থেকে নেমে যায়। স্ত্রী আনোয়ারা একাই নাহিদকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর রাত ৯টার দিকে নাহিদ তার স্ত্রীকে ফোন করে জানিয়েছিলেন তিনি কক্সবাজার যাচ্ছেন। ওসি জানান, স্ত্রীকে কক্সবাজার যাওয়ার কথা বললেও নাহিদ গিয়েছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা এলাকায়।
সেখানে ট্রান্সফরমারের সঙ্গে বৈদ্যুতিক তারগুলো সচল রাখার জন্য এক ধরনের তেল জাতীয় পদার্থ থাকে। তার কাটার পর সে সব নাহিদের হাতে ও শরীরে পড়ে ঝলসে যায়। আহত অবস্থায় নাহিদকে নৌপথে নগরীতে এনে স্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল ওসমান ও শওকত নামে দুই সহযোগী।
পেশায় নৌকার মাঝি ওসমানের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে দেখা যায় তিনি শওকতের সাথে রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ৫০ বারের অধিক টেলিফোনে কথা বলেছেন। সেই সূত্র ধরে শওকতকে শনাক্ত করে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে শওকত পুলিশকে জানান, তিনি ‘স্ক্র্যাপ’ মালামাল বিক্রেতা। ওসমানের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় তামার তার কিনে নিতেন। বুধবার রাতে তার কেনার বিষয়ে তাদের মধ্যে কথা হয়।
শওকত আরো জানান, নাহিদ আহত হওয়ার খবরটি ওসমান তাকে টেলিফোনে জানিয়ে পরামর্শ চেয়েছিলেন। তখন তিনি নাহিদকে তার স্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য ওসমানকে পরামর্শ দেন। শওকতের দেওয়া তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে জানিয়ে ওসি বাকলিয়া বলেন, রাতে ওসমান ও নাহিদের অবস্থান সরফভাটা এলাকায় ছিল বলে আমরা প্রমাণ পেয়েছি। পাশাপাশি ওই এলাকার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএমের সাথে আমরা যোগাযোগ করে সরফভাটা এলাকায় ট্রান্সফরমারের তার কাটার বিষয়েও সত্যতা পেয়েছি। এ বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক তার চুরির সিন্ডিকেট শনাক্তের কাজও চলছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাঙামাটি ভূমি অফিসের কানুনগো কারাগারে
পরবর্তী নিবন্ধঘরের দরজায় কাফনের কাপড় আতঙ্ক