গবেষণা শুধু পেশাগত কাজ নয়, জাতীয় উন্নয়নেও ভূমিকা রাখে

আইআইইউসির গবেষণা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে ইউজিসি সদস্য ড. আইয়ুব

| মঙ্গলবার , ৩০ জুন, ২০২৬ at ৬:০০ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম বলেছেন, গবেষণা শুধু পেশাগত কাজ নয়, সমাজ ও জাতীয় উন্নয়নেও ভূমিকা রাখে। গবেষণাকে ল্যাব আর জার্নালে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়, প্রকৃত জীবনসমস্যা সমাধানে গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। বিশুদ্ধ গবেষণার চেয়ে প্রায়োগিক গবেষণাকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, অগ্রগতির ভিত্তি হচ্ছে গবেষণা। ভাল গবেষণা ও আবিষ্কার ছাড়া কোনো জাতি টেকসই উন্নয়ন অর্জন করতে পারে না। সরকারও মনে করে যে, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে গবেষণা প্রয়োজন। তাই সরকার গবেষণা, আবিষ্কার ও উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-এর সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন (সিআরপি)-এর উদ্যোগে গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল অডিটোরিয়ামে রিসার্চ এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রাম ২০২৫ শীর্ষক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইআইইউসি’র উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সেন্ট্রালাইজড সাপোর্ট টু দ্যা নেটওয়ার্ক অব ইরাসমাস ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্টসের এশিয়ার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ড. মো. আশিকুর রহমান। অতিথি ছিলেন, আইআইইউসি’র বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আ ন ম শামসুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহজাহান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য এবং রিসার্চ এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রাম কমিটির কনভেনার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হাসমত আলী, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, প্রফেসর সামসুল আলম। উপস্থিত ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য প্রফেসর ড. আবু বকর রফীক ও আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সিরাজুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম আইআইইউসি’র উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী প্রসঙ্গে বলেন, মৎস্য প্রজনন ও হালদা নদীর উপর তার গবেষণা কাজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দিয়েছে, যা তরুণ গবেষকদের জন্য প্রেরণার উৎস।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আ ন ম শামসুল ইসলাম বলেন, গবেষণা নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করে, শিক্ষার মান উন্নত করে, বাস্তব সমস্যার সমাধান দেয় এবং গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সুনাম বৃদ্ধি করে, বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে অগ্রগতি অর্জনে সহায়তা করে এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো বহুমুখী জ্ঞান উৎপাদন ও বিতরণ কেন্দ্র। গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। আধুনিক বিশ্বে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ও শক্তি নির্ধারিত হয় তার গবেষণার মান এবং শিক্ষার গুণগত মানের উপর। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. মো. আশিকুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কতটা দক্ষ জনশক্তি রয়েছে তা গুরুত্বপূর্ণ।

সভাপতির বক্তব্যে আইআইইউসি’র উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী বলেন, গবেষণা কোনো চাকরির পদোন্নতি বা স্বীকৃতি অর্জনের উপায় নয়, বরং সমাজ ও মানবতার কল্যাণে জ্ঞানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার মাধ্যম। উল্লেখ্য, গবেষণা ও প্রকাশনায় বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ মোট ১৩ জন গবেষককে ক্রেস্ট, সম্মাননাপত্র ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। প্রাপ্ত ও বাছাইকৃত মোট ছিয়ানব্বইটি গবেষণাপত্রের মধ্যে তেইশটি গবেষণাপত্র দিয়ে শ্রেষ্ঠ হিসাবে পুরস্কৃত হয় ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জাহিদ হাসান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধফয়’স লেক কনকর্ড সদস্যদের ফ্যামিলি ডে