খুশি ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই

শেষ মুহূর্তে পশুরহাটে জমজমাট বেচাকেনা

চকরিয়া প্রতিনিধি | বুধবার , ২৮ জুন, ২০২৩ at ৭:১০ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের চকরিয়ায় গত ১০ দিন ধরে চলে আসছে কোরবানির পশু বেচাকেনা। ছোটবড় মিলিয়ে উপজেলার ২২টি পশুর হাটে এতদিন তেমন বেচাকেনা না থাকলেও হাটগুলোতে বিপুল দর্শনার্থীর আগমন ঘটেছিল। তবে শেষ মুহূর্তে এসে বেশ জমে উঠেছে পশুর হাটগুলো। এতে বেচাকেনাও চলছে দেদার। সাধ এবং সাধ্যের মধ্যেই এবারের হাটে পছন্দের পশু কিনে হাসিমুখে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে বেশিরভাগ মানুষকে।

গতকাল মঙ্গলবার বদরখালী ইউনিয়নের কলোনিজেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের বিশাল মাঠজুড়ে বসেছে কোরবানির পশুর হাট। একইসঙ্গে বসেছে পৌরসভার মগবাজারস্থ শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম মাঠেও। এই দুই হাটে হাজারো গবাদী পশু তথা গরু, মহিষ, গয়াল, ছাগলভেড়া বিক্রির জন্য দূরদূরান্ত থেকে নিয়ে আসে খামারি ও ঘরোয়াভাবে পালনকারীরা। বদরখালীর পশু বিক্রির হাট থেকে পার্শ্ববর্তী মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়াসহ আশপাশের লোকজনও পছন্দের পশু কিনতে আসতে দেখা যায়। অনেকে পছন্দের গরু কিনে হাসিমুখে ফিরছেন বাড়িতে। মহেশখালীর চালিয়াতলী এলাকার ব্যবসায়ী রমিজ উদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, প্রতিবছর আমাদের একান্নবর্তী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি করে বড় ও ছোট সাইজের গরু কিনে কোরবানি দেয়া হয়। এবারও একইভাবে দুটি গরু কিনেছি বদরখালীর এই বাজার থেকে। তবে গত বছরের চাইতে এবার দামের দিক দিয়ে অন্তত ২০ হাজার টাকা কম খরচ হয়েছে। কম দামে পাওয়ার কারণ কীএমন প্রশ্ন করা হলে রমিজ উদ্দিনের ভাষ্য, এবার আমাদের কক্সবাজার অঞ্চলে চোরাচালানের মাধ্যমে আসা মিয়ানমার, থাইল্যান্ড এবং ভারতীয় গরু দেদার ঢুকেছে সীমান্ত দিয়ে। বাইরের সেই গরুর প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়েছে। পৌরসভার মগবাজার থেকে কোরবানির গরু কিনতে আসা ফজল করিম বলেন, বাজারটিতে দেশীয় গরুর লাইন পড়েছে। ছোট, মাঝারি ও বড় সাইজের গরুর যথেষ্ট সমাহারও ঘটেছে। এতে ক্রেতাবিক্রেতা উভয়েই গরু বেচাকেনা করতে পারছে। এখানে উচ্চমূল্য হাকিয়ে কোনো ব্যাপারি বসে থাকছে না। কিছুটা লাভ হলেই গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন। ক্রেতা ফজল করিম বলেন, আমি প্রায় সাত মণ ওজনের একটি বড় গরু কিনেছি এই বাজার থেকে। এর পেছনে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আমি মনে করছি, দাম তেমন বেশি হয়নি। নাগালের মধ্যেই রয়েছে এবারের কোরবানির পশুর দাম।

এদিকে চকরিয়ার বৃহত্তম পশুর হাট পশ্চিম বড় ভেওলার ইলিশিয়ার পশুর হাটটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের মধ্যে সর্ববৃহৎ। সপ্তাহে দুইদিন এই হাট বসে। ইতোমধ্যে কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছে দুই হাটবার। আজ বুধবারও এখানে চলবে পশু বিকিকিনি। হাটের ইজারাদার জানান, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বুধবার শেষ দিন বিপুল পরিমাণ দেশীয় গরুর মিলনমেলা হবে। এজন্য বড় বড় ক্রেতারা এই হাটের দিকে চেয়ে আছেন সুলভমূল্যে পশু কেনার জন্য।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান বলেন, প্রতিবছরের মতো কোরবানির পশুর হাটগুলোতে সকল ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড রোধে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এজন্য প্রতিটি হাটে বিপুল পরিমাণ পুলিশ নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া হাটে হাটে বসানো হয়েছে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিনও। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নির্বিঘ্নে চলছে কোরবানির পশুরহাট।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৪৫ যাত্রী নিয়ে মাঝপথে ট্রলার বিকল কূলে আনা হলো স্টিমারে বেঁধে
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন ৩১ জুলাই