রাউজান উপজেলা সদরের স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থীদের অনেকেই এখন ক্লাস শেষে সময় কাটায় পৌরসভার বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ গণপাঠাগারে। এখানে বসে তারা লাইব্রেরিতে থাকা নিজেদের পছন্দের বই খুঁজে নিয়ে পড়ে মনোযোগ সহকারে। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর আগ্রহ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধর ইতিহাসের বইয়ে। এখানে অনেকের হাতে দেখা গেছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন কাহিনী ও ৭১–এর স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে লেখা বই। কিছু কিছু শিক্ষার্থী আসে সংবাদপত্র পড়তে। তারা পত্রিকার পাতা উল্টে পাল্টে দেখে দেশ–বিদেশের সংবাদ।
২০২২ সালে ১১ অক্টোবর চার সহাস্রাধিক বই সমৃদ্ধ এই পাঠাগারটি উদ্বোধন করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও রাউজানের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। রাউজান পৌরসভার নিচতলায় শীততপ নিয়ন্ত্রিত একটি হল রুমে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ বলেন, প্রযুক্তির যুগে কিশোর যুবকরা মোবাইল ফোনে আসক্ত। অনেকেই মোবাইল ফোনে চোখ আর কানে এয়ার ফোন লাগিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথেঘাটে বসে থাকে। অনেকেই বাড়ি ঘরে মোবাইল হাতে নির্ঘুম রাত কাটায়। মোবাইলের এমন আসক্তিতে আমাদের অনেক কিশোর–যুবক অন্ধত্ব ও বধির হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির মধ্যে আছে। এমন পরিস্থিতি থেকে আগামী প্রজন্মকে রক্ষায় এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপির নির্দেশে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আমাদের একটাই লক্ষ্য, মোবাইল আসক্তি থেকে ছেলেমেয়েদের বের করে এনে পাঠ্যভ্যাসের দিকে মনোযোগী করা। পাঠাগারটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।
পরিদর্শনে দেখা যায় পাঠাগারটি প্রতিদিন বিকালে পরিপূর্ণ থাকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির মাঝে। যারা এখানে প্রতিদিন বই পড়তে আসে তাদের মধ্যে একজন রাউজান আরআরএসি সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিউলি আকতার। সে বলেছে, বই পড়তে তার ভালো লাগে। এ কারণে স্কুল ছুটি শেষে এখানে আসে বই পড়তে।
রাউজান সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আলী রেজাও পাঠাগারে আসে। এখানে পড়ে ইতিহাসের অনেক কিছু জেনেছে সে।
জানা যায়, উপজেলা সদরের রাউজান সরকারি কলেজ, রাউজান আরআরএসি মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, রাউজান ছালামত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়, ব্যারিস্টার সুরেশ উচ্চ বিদ্যালয়, রাউজান দারুল ইসলাম কামিল মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পাঠাগারের পাঠক।












