সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে ২০৯টি আসনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে দলটি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ক্রীড়া ক্ষেত্রকে ঘিরে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেছে। নতুন সরকারের পরিকল্পনায় খেলাধুলাকে কেবল একটি শখ বা বিনোদন নয়, বরং একটি লাভজনক ‘পেশা ও জীবিকার মাধ্যম’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিএনপির ইশতেহারে সবচেয়ে বড় চমক হলো ক্রীড়াবিদদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এতদিন বাংলাদেশের অনেক অ্যাথলেট ক্যারিয়ার শেষে অনিশ্চয়তায় ভুগতেন। নতুন সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্রীড়াবিদদের মেধা ও শ্রমের বিনিময়ে একটি স্থায়ী পেশাদার কাঠামো তৈরি করা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ ও সামাজিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হয়। ক্রীড়া চর্চাকে কেবল ঢাকা–কেন্দ্রিক না রেখে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে চায় বিএনপি। তৃণমূল পর্যায়ে আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং স্থানীয় ক্লাবগুলোকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের মাধ্যমে একটি বিস্তৃত ক্রীড়া নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রামগঞ্জ থেকেও প্রতিভাবান খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। দলের ‘রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা’ অনুযায়ী, স্কুল–কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে খেলাধুলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা হবে। পাঠ্যক্রমে ক্রীড়াকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সুসংহত হয়। ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে পেশাদারিত্ব ও সুশাসন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে ইশতেহারে। বিশেষ করে ক্রিকেট, ফুটবল ও হকির মতো জনপ্রিয় খেলাগুলোর প্রশাসনিক কাঠামো স্বচ্ছ করতে ঢেলে সাজানো হতে পারে। এছাড়া জাতীয় বাজেটে ক্রীড়া খাতের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা এবং বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’–এর ধারাবাহিকতায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। হাই–পারফরম্যান্স ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন এবং প্রয়োজনে উচ্চমানের বিদেশি কোচ নিয়োগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে আগামীর বিএনপি সরকার। নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য পৃথক প্রশিক্ষণ একাডেমি এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন অ্যাথলেটদের জন্য বিশেষ সুযোগ–সুবিধা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। তৃণমূল থেকে নারী খেলোয়াড় অন্বেষণের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়া মানচিত্রকে আরও সমৃদ্ধ করার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইশতেহারে ক্রীড়াকে ‘জীবিকার মাধ্যম’ হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে। তবে ফেডারেশনগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং দুর্নীতি রোধ করাই হবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ।










