কোরবানি ঈদের বাকি আছে আর দুই সপ্তাহেরও কম। সাধারণত কোরবানির সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে দিয়ে বেড়ে যায় গরম মসলার বাজার। ভোক্তাদের অভিযোগ, কোরবানির সময় স্বাভাবিকভাবে দারুচিনি, এলাচ, জিরা, গোলমরিচ ও লবঙ্গের মতো মসলার চাহিদা বেড়ে যায়। সেই চাহিদাকে পুুঁজি করে একশ্রেণীর ব্যবসায়ীরা দাম বৃদ্ধি করে থাকেন। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটেছে। চলতি বছর গত এক মাস সব ধরনের গরম মসলার বাজার ঠাণ্ডা। এই এক মাসের মধ্যে শুধুমাত্র এলাচের দাম কমেছে কেজিতে ৭০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া দারুচিনি ১০০ টাকা, লবঙ্গ ১২০ টাকা, জিরা ১০০ টাকা ও গোল মরিচের দাম কেজিতে ১০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে খাতুনগঞ্জের একাধিক ব্যবসায়ীর দাবি, গরম মসলার চাহিদা কমে গেছে। এছাড়া ব্যবসায়ীরা পর্যাপ্ত পণ্য আমদানি করেছেন। এরচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে বর্তমানে ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে দেশের বাজারে অবাধে গরম মসলা প্রবেশ করছে। এর ফলে দাম কমছে।
খাতুনগঞ্জের কয়েকজন গরম মসলা ব্যবসায়ী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে গরম মসলার বাজার নিম্নমুখী। তবে আমাদের দেশে যে পরিমাণ গরম মসলা মজুদ আছে, সে অনুপাতে বাজারে চাহিদা নেই। অর্থনৈতিক মন্দার কারণে মানুষ ব্যয় সংকোচন করে ফেলেছে। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, মেজবান, মিলাদ মাহফিল আগের চেয়ে কমে গেছে। ফলে চাহিদাও কমে গেছে। এর প্রভাবে গরম মসলার দাম কমে যাচ্ছে।
খাতুনগঞ্জের মসলার বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে এলাচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩ হাজার ৬৪০ টাকা, যা গত এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৩৪০ টাকায়। এক মাস আগে জিরা বিক্রি হয়েছে ৬৩০ টাকায়, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫৩০ টাকা, গোল মরিচ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৯৫ টাকায়, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৯৮৫ টাকায়, দারুচিনি বিক্রি হয়েছে ৫০৫ টাকায়, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪০৫ টাকায় এবং লবঙ্গ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৩৮০ টাকায়, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২৬০ টাকায়।
খাতুনগঞ্জের মসলা আমদানিকারক হাজী জসিম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন বলেন, সব ধরনের গরম মসলার বাজার এখন নিম্নমুখী। বাজার চাহিদা অনেক কম। এছাড়া ভারত থেকে চোরাই পথে বিপুল পরিমাণ গরম মসলা দেশের বাজারে প্রবেশ করায় এর প্রভাবে মূলত দাম কমছে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন আজাদীকে বলেন, আমাদের দেশে গরম মসলার কোনো ঘাটতি নেই। তারপরেও ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময় সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে থাকেন। তবে এখন বাজার নিম্নমুখী, এটি ভোক্তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক। তবে সরকারকে নজরদারি করতে হবে। কারণ যেহেতু কোরবানির ঈদের আরও দুই সপ্তাহের মতো সময় আছে, তাই ব্যবসায়ীরা যাতে নতুন কোনো অজুহাতে দাম বৃদ্ধি না করেন। কারণ আমাদের দেশে ভোগ্যপণ্যের বাজার ব্যবসায়ীদের মর্জির ওপর নির্ভর করে। তাই ইচ্ছেমতো পণ্যের দাম উঠানামা করান।













