নতুন গাড়ি কিনলে তা রেজিস্ট্রেশন করানো ছাড়া রাস্তায় চালানোর সুযোগ খুবই সীমিত। একটি নতুন গাড়ি কেনার দিন কয়েকের মধ্যেই ব্যক্তি বা কোম্পানির নামে অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এই রেজিস্ট্রেশন করানোর জন্য স্থানীয় বিআরটিএ কার্যালয়ে যাওয়ার কাজেই শুধু রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি চালানোর সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রেও শোরুম থেকে একটি গ্যারেজ নম্বর নিতে হবে। এই গ্যারেজ নম্বরও শুধুমাত্র শোরুম থেকে বিআরটিএ কার্যালয় পর্যন্ত যাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবে। এর বাইরে অন্য কোথাও এই নম্বর দিয়ে গাড়ি চালানোর সুযোগ নেই। এর ব্যত্যয় ঘটালে সড়ক পরিবহন আইনে পুলিশ মামলা দায়ের এবং জরিমানা আদায় করার বিধান রয়েছে। রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো গাড়ির রাস্তায় নামাটা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু প্রচলিত এসব আইন না মেনে নগরীতে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি চলাচল করতে দেখা যায়। চট্টগ্রাম মহানগরী পুলিশেরও রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি রয়েছে। ‘প্রেস’ কিংবা ‘সাংবাদিক’ লেখা গাড়িও হরদম রাস্তায় চলে। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে রেজিস্ট্রেশন নম্বরের স্থলে ‘ব্যক্তির নাম’ লিখে গাড়ি চালানোর একটি ঘটনা দৈনিক আজাদীর ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। রেজিস্ট্রেশন নম্বরের স্থলে ‘চৌধুরী সাহেব’ লিখে গাড়িটি ব্যস্ততম সড়কে চলাচল করছে । প্রশ্ন উঠেছে, কে এই চৌধুরী সাহেব?
চট্টগ্রামের রাস্তায় প্রতিদিনই নতুন নতুন গাড়ি নামছে। ডলার সংকটের পরও প্রতিদিন গড়ে ১০টিরও বেশি প্রাইভেট কার রেজিস্ট্রেশন হয়ে থাকে। মাস কয়েক আগে এই সংখ্যা দৈনিক ২০টির কাছাকাছি ছিল। বিআরটিএর দুইটি কার্যালয় থেকে এসব গাড়ি রেজিস্ট্রেশন করা হয়ে থাকে। এক একটি গাড়ি রেজিস্ট্রেশন করতে সরকারের বিভিন্ন ফি বাবদ সর্বনিম্ন এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকা থেকে থেকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করতে হয়। গাড়ি রেজিস্ট্রেশন খাত থেকে পাওয়া টাকা সরকারের রাজস্ব আয়ের বেশ উল্লেখযোগ্য একটি খাত বলেও সূত্র জানিয়েছে।
নতুন গাড়ি কিনলেও অনেকেই রেজিস্ট্রেশন না করিয়ে নানা ফন্দিফিকির করে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করে। এতে সরকার নিশ্চিত রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে।
রাজস্ব ফাঁকির সব ফন্দিফিকিরকে ছাড়িয়ে এবার নিজের নামে গাড়ি চালানোর এই ঘটনা দেখা গেল। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে নিজের নামে নম্বর প্লেট করার সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশে তার প্রচলন নেই। কিন্তু নিজের নামে গাড়ি নামিয়ে ‘চৌধুরী সাহেব’ দেশে বসে বিদেশী ভাব নেয়ার চেষ্টা করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন। কিন্তু এই ভাবে থাকা ‘চৌধুরী সাহেব’ কে তার কোনো হদিশ মেলেনি। টয়োটা ব্র্যান্ডের ‘জি করোলা’ মডেলের ২০০৪/২০০৫ সালের দিকের অপেক্ষাকৃত সস্তা একটি গাড়িতে এই ভাব আনার চেষ্টা করা হয়েছে। গতরাত ৮টা নাগাদ নগরীর প্রবর্তক মোড়ে গাড়িটি দেখা গেছে।
বিআরটিএর চট্টগ্রামের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ শফিকুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এভাবে গাড়ি চালানোর কোনো সুযোগই নেই। রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো গাড়িই রাস্তায় নামানো যায় না। গাড়ির শোরুম থেকে বিআরটিএ কার্যালয় পর্যন্ত গাড়ি আনার ক্ষেত্রেও গ্যারেজ নম্বর লাগাতে হয়। রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি দেখার সাথে সাথে পুলিশকে আটক করার ক্ষমতা প্রচলিত আইনেই দেয়া আছে।
বিষয়টি নিয়ে নগর ট্রাফিক পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার জয়নুল আবেদীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রেজিস্ট্রেশনবিহীন কোনো গাড়ি রাস্তায় চালানো অপরাধ। এভাবে গাড়ি চালানোর কোনো সুযোগ নেই। পুলিশের চোখ এড়িয়ে যাওয়ায় গাড়িটি আটক হয়নি। এই ধরণের গাড়ি দেখার সাথে সাথে পুলিশ আটক করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অবশ্যই গাড়িটির ব্যাপারে আমরা খোঁজ খবর নেবো। তবে চৌধুরী সাহেবটা যে কে তা খুঁজে বের করতে পুলিশের হয়তো কিছুটা সময় লাগবে।