চট্টগ্রাম বন্দরের সামপ্রতিক কর্মবিরতির প্রভাবে সৃষ্ট পণ্যজট নিরসনে কাস্টমস ও বন্দরের সব কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা এবং ডেমারেজ চার্জ ছাড়া পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ। গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ অনুরোধ জানান বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান।
চিঠিতে বলা হয়, নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে শ্রমিক–কর্মচারী সংগঠনগুলোর আন্দোলন ও কর্মবিরতির কারণে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্দরের স্বাভাবিক আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এর ফলে বন্দরে অস্বাভাবিক পণ্যজট তৈরি হয়েছে।
বিজিএমইএ জানায়, তৈরি পোশাক শিল্প অত্যন্ত সময়সংবেদনশীল ও নির্দিষ্ট লিড টাইমনির্ভর খাত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে রপ্তানিকারকরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ অর্ডার হারানোর ঝুঁকিতে পড়েন। কর্মবিরতির সময়কার স্থবিরতায় অনেক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও চালান কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ অবস্থায় জমে থাকা পণ্য দ্রুত খালাস ও জট নিরসনের জন্য কাস্টমস ও বন্দরের সংশ্লিষ্ট সব সেবা ২৪/৭ ভিত্তিতে চালু রাখার ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য আমদানিকারকদের কোনো গাফিলতি বা অবহেলা ছিল না, শ্রমিক–কর্মচারীদের কর্মসূচির কারণে নির্ধারিত সময়ে পণ্য খালাস সম্ভব হয়নি। তাই ৩০ জানুয়ারির পর থেকে ডেলিভারিকৃত আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে ডেমারেজ চার্জ আদায় যৌক্তিক নয় বলে মনে করে বিজিএমইএ।
তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি আদেশ সময়মতো সম্পন্ন, ক্রেতাদের আস্থা বজায় রাখা এবং রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখতে দ্রুত পণ্য খালাসের সুযোগ দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে তৈরি পোশাক কারখানার মালিকদের এই সংগঠন।












