কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র ও জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে সমন্বিতভাবে একটি ব্যবস্থাপনায় আনার বিষয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, দর্শনার্থীরা যাতে প্রথমে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র পরিদর্শন করে পরে সংশ্লিষ্ট জাদুঘরে যেতে পারেন সে ধরনের একটি সমন্বিত পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। এখানে একটি আধুনিক স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন, প্রয়োজনে শহীদ জিয়ার ভাস্কর্য নির্মাণ এবং ঐতিহাসিক সম্প্রচারে ব্যবহৃত সরঞ্জাম সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি গত মঙ্গলবার দুপুরে কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন। একইদিন জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের সেমিনার হলে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে শিশু কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি। এর আগে সংস্কৃতিমন্ত্রী জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন এবং চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন ও জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে শহীদ জিয়ার নির্মম হত্যাকাণ্ড যেমন জাতির জন্য বেদনাদায়ক অধ্যায়, তেমনি মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান বাঙালির গৌরবের অংশ। এই দুই ঐতিহাসিক দিককে যথাযথভাবে উপস্থাপন ও সংরক্ষণের জন্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার এই গৌরবময় ইতিহাস সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। যে জাতি তার ইতিহাস ভুলে যায়, সে জাতির অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারে না। তাই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বীরত্বগাঁথা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি সর্বজনীন জনযুদ্ধ, যার মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করে। এই স্বাধীনতার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনের সূচনা, ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচন। এসব আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাঙালি জাতি স্বাধীনতার চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে।
তিনি বলেন, ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর আক্রমণের পর সমগ্র দেশে যখন নেতৃত্বশূন্যতা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল, তখন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন। এই ঘোষণার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে নতুন গতি সঞ্চার হয় এবং জনগণের মধ্যে সাহস ও উদ্দীপনা ফিরে আসে। এ লক্ষ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এবং শহীদ জিয়ার স্মৃতিকে সংরক্ষণ ও উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানান মন্ত্রী।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এদিকে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে শিশু কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তাঁর কর্মজীবনে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছেন। বিশেষ করে শিশুদের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা ও মমত্ববোধ জাতি সবসময় গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে জানিয়ে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা নেতা। যিনি কেবল জন্মগ্রহণ করেননি, বরং ইতিহাস সৃষ্টি করে জাতির চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সাহসী নেতৃত্ব প্রদান করেন।
মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর হামলার প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন যা মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মন্ত্রী বলেন, পরবর্তীকালে রাষ্ট্র পরিচালনায় জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ–এর ধারণা প্রবর্তন করেন, যা দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও সংস্কৃতিকে একসূত্রে গেঁথে জাতীয় ঐক্যকে সুদৃঢ় করে। তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষি বিপ্লব, নারীর ক্ষমতায়ন এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি ছিল– ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’। মন্ত্রী আরও বলেন, জিয়াউর রহমান দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে সার্ক গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যা পরবর্তীতে বাস্তবায়িত হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শিশু–কিশোরদের অংশগ্রহণমূলক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান এবং বলেন, অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি সকল অংশগ্রহণকারীকে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দেন।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।











