কক্সবাজারে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত সুমাইয়া আক্তার ওরফে ইশরাত চৌফলদণ্ডীর সিকদার পাড়া এলাকার মৃত মোক্তার আহম্মদের মেয়ে। গত রোববার দুপুরে কক্সবাজার শহরের পেশকার পাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ তার মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহতের পরিবারের লোকজন জানায়, সুমাইয়া গত ৪ আগস্ট কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এতে তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় এক বছর আগে সাইফুল ইসলাম হৃদয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি থেকে বিয়ের আশ্বাসে সাইফুল তাকে কক্সবাজার পৌরসভার গোলদীঘির পাড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় রাখেন। সেখানে তারা স্বামী–স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করতেন। পরে সুমাইয়া অন্তঃসত্ত্বা হলে সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। পরে সাইফুল তাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখান। গত ২৮ জুলাই বিকেলে কলাতলী এলাকার একটি হোটেলে নিয়ে গিয়েও তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে অস্বীকৃতি জানালে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে সাইফুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছিলেন সুমাইয়া।
থানায় অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর একদিন আগে শনিবার ফেসবুক লাইভে নিজের অসহায়ত্ব, নিরাপত্তাহীনতা ও বিচার পাওয়ার আকুতি তুলে ধরেছিলেন সুমাইয়া। পরদিনই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুমাইয়ার বড় বোনের দাবি, শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গেছেন তার বোন। কিন্তু সেই আকুতির কোনো সমাধান হয়নি।
সুমাইয়ার মৃত্যুর পর সাইফুল ইসলাম হৃদয় আত্মগোপনে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তার স্বজনরা। তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আলী বলেন, আত্মহত্যার খবর পেয়ে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। মৃত্যুর আগে ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, পরিবারের দাবি ও অন্যান্য প্রসঙ্গ সামনে রেখে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।








