কক্সবাজারে ছুরিকাঘাতে চব্বিশের ছাত্র গণ–অভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক খোরশেদ আলম (২৫) নামে এক তরুণ খুন হয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন কবিতা চত্বর এলাকায় ঝাউ বাগানের ভেতরে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। খোরশেদ কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউসুলুলঘোনা এলাকার শাহ আলমের ছেলে। তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। তবে কোনো পদ–পদবি ছিল না।
এই ঘটনায় প্রধান ঘাতক মো. তারেক ওরফে কাকা তারেক নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি রামু উপজেলার খোন্দকার পাড়ার মোজাম্মেল হক ভুট্টোর পুত্র। অন্যদিকে ঘটনার সময় নিহত খোরশেদ আলমে সাথে থাকা তার বান্ধবী ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আরেক সাবেক সমন্বয়ক তারিন সুলতানাকে তাৎক্ষণিক হেফাজতে নেয় পুলিশ। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকালে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান।
এর আগে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ছমি উদ্দিন জানান, ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় খোরশেদ আলমকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে ওসি আরো জানান, রাতে কবিতা চত্বর এলাকায় অবস্থানকালে দুই যুবক খোরশেদ আলমের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। খোরশেদের পেট, পা–সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম করে ওই যুবকেরা।
ঘটনার সময় খোরশেদের সঙ্গে থাকা তারিন সুলতানা জানান, কবিতা চত্বরে অবস্থানকালে হঠাৎ দুজন যুবক এসে খোরশেদকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এরপর ‘কী আছে, দিয়ে দাও’ বলে খোরশেদকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, খোরশেদ আলমকে হত্যায় আপাতত তিনটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, ছিনতাই, পূর্ব শত্রুতা ও রাজনৈতিক বিরোধ। তবে এসব ছাড়াও অন্য কারণও থাকতে পারে। আরো অধিকতর তদন্ত চলছে।
প্রধান ঘাতককে গ্রেপ্তার সম্পর্কে তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই জেলা পুলিশ ও সদর থানা সমন্বয়ে পুলিশের একাধিক দল ঘাতকদের ধরতে অভিযান শুরু করে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা কক্সবাজার সদর, পৌরসভা, রামু ও চকরিয়ায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের এক পর্যায়ে বুধবার সকালে চকরিয়া খুটাখালীর ডুমখালীর আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ঘাতক মো. তারেক ওরফে কাকা তারেককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে কক্সবাজার সদর থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তারেককে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে হেফাজতে নেয়া তারিন সুলতানার মুখোমুখি করা হয়। তারিন সুলতানা নিশ্চিত করেন– এই তারেকই প্রধান ঘাতক।
দুইয়ের অধিক ব্যক্তি হামলায় অংশ নিয়েছিল বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান। তবে তদন্তের স্বার্থে তিনি তাদের পরিচয় জানাননি। এছাড়া কিশোর গ্যাংও এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানান পুলিশ সুপার। বান্ধবী তানিয়াকে ছেড়ে দেয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ ও নানা তথ্য–উপাত্ত সংগ্রহ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে– এই হত্যাকাণ্ডের সাথে খোরশেদ আলমের সাথে থাকা বান্ধবী তানিয়ার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তাই তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে খোরশেদ আলমের নিহতের খবরে মঙ্গলবার রাত সোয়া ১টার দিকে কক্সবাজার শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সমাবেশে উপস্থিত সবাই খোরশেদ আলম হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। অন্যদিকে গতকাল বুধবার সকালে ময়নাতদন্ত সম্পন্নের পর বিকাল সাড়ে ৫টায় কক্সবাজার শহরের হাশেমিয়া কামিল মাদ্রাসার সাথে নিহত খোরশেদ আলমের নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজায় বিপুল মানুষ অংশ নেন। পরে এলাকার সামাজিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।










