কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে একই ঘরানার সাতটি রাজনৈতিক দল জোট গঠন করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে হেফাজতের মহাসচিব সাজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে সাতটি দলের নেতাদের অংশগ্রহণে এক বৈঠকে ‘সমমনা ইসলামী দলসমূহ’ নামে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ সাতটি দল হচ্ছে– বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট (রাজী), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। বৈঠকে সাতটি দলের তিনজন করে একুশজন ও হেফাজতে ইসলামের তিনজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। খবর বিডিনিউজের।
ঢাকার খিলগাঁওয়ে মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন। তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলামের সহযোগিতায় আমরা সাতটি দল সমমনা ইসলামী দলসমূহের ব্যানারে একত্রিত হয়েছি। আমাদের জোটের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা হওয়া পর্যন্ত হেফাজতের নেতৃত্ব আমাদের সহযোগিতা করবেন।
জোটবদ্ধ দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও নেজামে ইসলাম পার্টি (ইজহার) বর্তমানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক। দল দুটি জামায়াত জোটেও সক্রিয় থাকবে। আর জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ক্ষমতাসীন বিএনপির সঙ্গে থাকবে, পাশাপাশি সমমনা ব্যানারেও সঙ্গী হবে। আতাউল্লাহ আমিন বলেন, আমরা রাজনৈতিকভাবে ওই জোটগুলোতে থাকব। আর সামগ্রিক পরিস্থিতি, ইসলামবিরোধী তৎপরতা নিয়ে আমরা এই জোট থেকে থাকব। স্থানীয় নির্বাচনেও সমমনা দলসমূহের ব্যানারেও সক্রিয় থাকতে পারি। বৈঠকে সাতটি দলের প্রতিটির তিনজন করে সদস্য নিয়ে ২১ জনের একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কওমি ঘরানার বিভিন্ন দল একাধিক জোটে যায়। তারা পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়। এরপর হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহর আহ্বানে গত ১৬ জুলাই ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামী দলের নেতারা নীতিগতভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর গত ২৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতেই লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করে সাত দল। সেদিন জানানো হয়েছিল, লিয়াজোঁ কমিটির সদস্যরা ঢাকায় ২২ অক্টোবর বৈঠক করে ঐক্যের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতৃত্বের তত্ত্বাবধানে কওমি মাদ্রাসাগুলোর দলগুলোর একটি ঐক্যপ্রচেষ্টা চলছিল। সেই অংশ হিসেবেই সাতটি দলের একটি ব্যানার হয়েছে। তিনি বলেন, হেফাজতের নেতৃত্বে কোনো জোট এটা নয়, হেফাজত মুরুব্বির ভূমিকায় আছে। আগামী ৫ ডিসেম্বর পরবর্তী বৈঠক হবে বলে জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা আতাউল্লাহ।
একটি ইসলামী দলের প্রধান বলেন, মূলত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক জামায়াত–জোটের সঙ্গে থাকায় তাকে সেখান থেকে বের করে আনার জন্য একটি চাপ ছিল। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগে থেকেই এই তৎপরতা ছিল। কিন্তু মামুনুল হকের অনড় অবস্থানের কারণে দলটিকে জামায়াত জোট থেকে ছাড়িয়ে আনা যায়নি। এখন মামুনুল হকের দল দুই পক্ষের সঙ্গে থাকল।
বৈঠকে অংশ নেওয়া অন্যদের মধ্যে হলেন– জমিয়তের সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবীব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন ও আহমদ আলী, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান এবং ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির ও মহাসচিব সাখাওয়াত হোসেন রাজীসহ অন্যরা। বৈঠকে হেফাজতের নায়েবে আমির আবদুল আউয়াল ও আইয়ুব বাবুনগরী উপস্থিত ছিলেন।











