এখনো কুপিই ভরসা ত্রিপুরা পাড়ার হাজারো পরিবারে

সীতাকুণ্ড শতভাগ বিদ্যুতায়িত ঘোষণার ছয় বছর পার

লিটন কুমার চৌধুরী, সীতাকুণ্ড | বৃহস্পতিবার , ৫ অক্টোবর, ২০২৩ at ৪:৪২ পূর্বাহ্ণ

সীতাকুণ্ড উপজেলাকে ২০১৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর শতভাগ বিদ্যুতায়িত এলাকা ঘোষণা করায় স্বস্তির হাসি ফুটেছিল সোনাইছড়ি ইউনিয়নের মধ্য সোনাইছড়ি ত্রিপুরাপাড়ার বাসিন্দা কাঞ্চন ত্রিপুরার (৩৭) মুখে। ত্রিপুরাপাড়াকে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করতে ঘোষণার মাসখানেক পর সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কার্যালয়ে ধরনা দেন তিনি। কিন্তু জায়গার মালিকানার কাগজপত্র না থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বঞ্চিত হন তাঁরা। ফলে ঘোষণার ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো অন্ধকারে রাত কাটছে তাঁদের। শুধু কাঞ্চন ত্রিপুরা ও তাঁর পাড়ার বাসিন্দারা নয়, শতভাগ বিদ্যুতায়িত ঘোষণা ছয় বছর অতিবাহিত হলেও এখনো বিদ্যুৎহীন রয়েছে সীতাকুণ্ডের একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নের এক হাজার ত্রিপুরা পরিবার।

সরকারি ঘোষণার পরও তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় বিদ্যুৎবিহীন পরিবারগুলোর দিন কাটছে নানামুখী সমস্যায়। বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ জানায়, বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার অন্যতম শর্ত হলো ভূমির মালিকানা। কিন্তু ত্রিপুরাপাড়ায় বসবাস করা লোকজনের নিজস্ব কোনো ভূমি নেই। তারা দুর্গম পাহাড়ের ভেতরে অন্যজনের জায়গায় বার্ষিক খাজনা দিয়ে বসবাস করছেন। যার ফলে বসবাস করা সেই জায়গার মালিকানা নেই তাঁদের নামে।

এ বিষয়ে ত্রিপুরা পাড়ার একাধিক বাসিন্দা জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎহীন দিনযাপন করছেন। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় ছেলেমেয়েদের লেখাপড়াসহ নানামুখী সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ২০১৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সীতাকুণ্ড উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত ঘোষণা করায় কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছিল। ঘোষণার পর বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে

একাধিকবার সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে ধরনা দিয়েছেন তাঁরা। অথচ এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ পাননি সীতাকুণ্ডের ছোটদারোগাহাট, সীতাকুণ্ড পৌরসদরের মহাদেবপুর, বাঁশবাড়িয়া, সুলতানা মন্দির, ছোটকুমিরা, মধ্য সোনাইছড়ি, দক্ষিণ সোনাইছড়ি, মদনহাট এলাকায় আটটি ত্রিপুরা পাড়ার ৮০০ পরিবার ও মুরাদপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মুরাদপুর গ্রামের প্রায় ২০০ পরিবার।

সরেজমিন দেখা গেছে, মধ্য সোনাইছড়ি গ্রামের বিদ্যুৎ সংযোগ থাকা সমতল ভূমি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে ত্রিপুরাপাড়ার অবস্থান। সমতল ভূমি থেকে কিছুটা উঁচু বেশ কয়েকটি টিলায় প্রায় ৬৫ পরিবারের সাড়ে তিন শতাধিক মানুষের বসবাস। এ পাড়ায় এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। পাড়ার ৮১০টি পরিবার ব্যক্তিগতভাবে সৌরবিদ্যুৎ নিলেও সন্ধ্যা নামলে অবশিষ্ট ৫৫ পরিবারে আলোর ভরসা কুপি বাতি। একই দৃশ্য পৌরসদরের মহাদেবপুর ত্রিপুরাপাড়ায়। সমতলের কাছাকাছিতে এ পাড়ার অবস্থান হলেও সেখানেও পৌঁছায়নি বিদ্যুৎ।

মধ্য সোনাইছড়ি ত্রিপুরাপাড়ার সুজন জানান, তাঁদের পাড়াসহ উপজেলার আটটি ত্রিপুরাপাড়া পাহাড়ের ধারে অবস্থিত। শতভাগ বিদ্যুতের আওতাধীন হয়েও তারা বিদ্যুৎ না পাওয়ায় রাতের আঁধারে পাহাড়ি এলাকায় চলাফেরা করতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়ছেন।

ফৌজদারহাট বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার মাসুম জানান, স্থানীয় সাংসদ দিদারুল আলমের ডিও লেটারসহ মধ্য সোনাইছড়ি ত্রিপুরাপাড়ার আবেদনটি চলমান প্রকল্পে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎবিহীন আরও যে দুটি ত্রিপুরাপাড়া রয়েছে, সেসব পাড়ার বাসিন্দারা এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে কোনো আবেদন করেননি। তারা যদি বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে আবেদন করেন, তাহলে পাড়াগুলো সার্ভে করা হবে।

বাড়বকুণ্ড বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যালয়ের প্রকৌশলী নাফিজ ইমতিয়াজ জানান, সরকারি নিয়মে বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে হলে জমির মালিকানা কাগজপত্র থাকতে হয়। কিন্তু তাঁদের আওতাধীন পাঁচটি ত্রিপুরাপাড়ার বাসিন্দারা অন্যের পাহাড়ে বসবাস করায় তাঁদের কাছে মালিকানার কোনো কাগজপত্র নেই। ফলে ভূমির মালিকানা জটিলতায় তাঁদের বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধডেঙ্গুতে সারা দেশে ১৬ জনের মৃত্যু আক্রান্ত ২৫৬৪
পরবর্তী নিবন্ধহঠাৎ গুলির শব্দে কেঁপে উঠলো তুমব্রু সীমান্ত