একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রং

মিতা পোদ্দার | শনিবার , ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৫:২৩ পূর্বাহ্ণ

মাগো, ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়’? একুশ মানে এগিয়ে চলা। একুশ মানে মাথা নত না করা। একুশ আমাদের চেতনার শেকড়, একুশ আমাদের গর্ব। শহীদের রক্তে রাঙানো শিমুলুপলাশের এই ফাগুনে দ্বিগুণ আগুন জ্বেলেই বীর বাঙালি প্রতিষ্ঠা করেছিল মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার। পৃথিবীর ইতিহাসে বাঙালিই একমাত্র জাতি, যারা নিজের ভাষার জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিল। একুশ আমাদের প্রাণের গভীরের এক শক্তির নাম। ৪৮ থেকে ৫২ সাল এক সুদীর্ঘ সংগ্রাম। ১৯৫২সালে ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির আত্মজাগরণ ও রক্তিম বাঁক সূচিত হয়। সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভের আগুনের লেলিহান শিখা। এই আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে ১৯৫২ সালে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি এ দেশের দামাল সন্তানেরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ভাষার জন্য আন্দোলন করে। ১৪৪ ধারা অবমাননার অজুহাতে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। সে গুলিতে নিহত হন রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার নাম না জানা আরো অনেকে। তবু আন্দোলন থেমে যায় নাই। আন্দোলন চলে। শহীদদের রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ। ভাষার জন্য যে আন্দোলন করতে হয় ও জীবন দিতে হয় তার একমাত্র নজির সারাবিশ্বের মধ্যে আমাদেরই রয়েছে। একুশ আমাদের শিখিয়েছে কিভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হয়? কীভাবে অধিকার আদায় করতে হয়। কীভাবে বিপদের সময় দেশের পাশে দাঁড়াতে হয়। ফাল্‌গুনে কৃষ্ণচূড়া আজও স্মৃতির সাক্ষী এই কথাটি বসন্তের আগুনরাঙা সৌন্দর্যে বারবার ফুটে ওঠে। প্রতি বছর ফাল্গুনে কৃষ্ণচূড়া গাছে নতুন পাতা ও ফুল আসার সাথে সাথে পুরোনো স্মৃতিগুলো আবার জীবন্ত হয়ে ওঠে। তাইতো কবির কণ্ঠে ধ্বনিত হয় ফাগুন মানে পলাশ, শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার অগ্নিবর্ণে প্রকৃতির পূর্ণ যৌবন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসর্বত্র শুদ্ধ বাংলা ব্যবহারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক
পরবর্তী নিবন্ধএকুশ মানে মাতৃভাষা