একুশ: গর্বের কণ্ঠস্বর

ফারহানা ইসলাম রুহী | বুধবার , ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ

একুশে তারুণ্যের জয়গান গায়, ইতিহাসে শিক্ষা দেয় এই উজ্জ্বল, প্রাণবন্ত দিনগুলো এসেছে তাদের হাত ধরেই। ভয় নয় প্রতিবাদ করার আত্মবিশ্বাস ও দুঃসাহস; নীরবতা নয়, কণ্ঠস্বর। মহান একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু একটি ঐতিহাসিক দিন নয়, এটি একটি চেতনা, একটি সাহস, একটি পরিচয়। কিন্তু প্রজন্মের কাছে একুশকে যদি শুধু বইয়ের পাতার ইতিহাসে বন্দি করে রাখা হয়, তবে তা কখনো হৃদয়ের বিষয় হয়ে উঠবে না। তাদের কাছে একুশকে পৌঁছে দিতে হলে পুরনো ভাষার উপদেশ নয়, দরকার নতুন ভাষার সংযোগ। আজকের তরুণ প্রজন্ম তথ্য দিয়ে নয় অনুভূতি দিয়ে যুক্ত হয়; তারা তারিখ মুখস্থ করতে চায় না, তারা গল্প জানতে চায়। তাই একুশের কথা বলতে হলে পরিসংখ্যান নয় মানুষের গল্প বলতে হবে: একজন তরুণের সাহস, একজন মায়ের চোখের জল, একজন ছাত্রের রক্তে লেখা স্বপ্ন এই গল্পগুলোই একুশকে জীবন্ত করে তোলে। এরা তো ডিজিটাল প্রজন্ম; তাদের পৃথিবী ৎববষং, ংযড়ৎঃং, পধঢ়ঃরড়হং, ারংঁধষং আর পৎবধঃরারঃু দিয়ে তৈরি। একুশকে তাদের কাছে আকর্ষণীয় করতে হলে একে ‘ইভেন্ট’ নয় ‘কালচার’ বানাতে হবে; আধুনিক ডিজাইন, ধবংঃযবঃরপ ভিজুয়াল, ট্রেন্ডিং ফরম্যাটে বার্তা, ছোট কিন্তু গভীর ক্যাপশন এই ভাষাতেই একুশকে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো লেকচার নয়, লিসেনিং; তাদের শুধু শেখানো নয় তাদের শোনাও দরকার। তাদের ভাবনা, তাদের ভাষা, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি সবকিছুকে সম্মান করতে হবে, কারণ সম্মান জন্মায় আদেশ থেকে নয় বোঝাপড়া থেকে। একুশকে শুধু ‘ভাষা আন্দোলন’ হিসেবে নয়, একটি আধুনিক মূল্যবোধ হিসেবে তুলে ধরতে হবে নিজের পরিচয় নিয়ে দাঁড়ানোর সাহস, নিজের মত প্রকাশের অধিকার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার শক্তি, নিজের কণ্ঠস্বরকে মূল্য দেওয়া, আত্মমর্যাদা ও স্বাধীন চিন্তা। তখন একুশ ইতিহাস থাকবে না একুশ হবে তাদের জীবনের দর্শন। সবচেয়ে বড় কথাভয় নয়, গর্ব তৈরি করতে হবে; ‘তুমি ভাষা জানো না’ বলে লজ্জা দেওয়া নয়, ‘তোমার ভাষা তোমার শক্তি’ এই আত্মবিশ্বাস দেওয়াই একুশের শিক্ষা। তখন একুশ হবে বাধ্যবাধকতা নয় ভালোবাসা, একুশ হবে আনুষ্ঠানিকতা নয় জাগ্রত চেতনা, একুশ হবে স্মৃতিচারণ নয় নিজের পরিচয়। কারণ একুশ মানে শুধু অতীত নয় একুশ মানে বর্তমানের কণ্ঠস্বর, আর ভবিষ্যতের সাহস।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমায়ার জাল
পরবর্তী নিবন্ধদূরের টানে বাহির পানে