ফেব্রুয়ারি এল!
রফিক, শফিক, ভাইয়েরা সব রাজপথেতে গেল।
শিমুল, জারুল, পলাশ আর কৃষ্ণচূড়ার ফাগুন,
কে জানত? ঠোঁটের বুলির তালে তালে
লাগবে এবার আগুন!
লেলিয়ে দেয়া পুলিশ আর বুলেট মেশিনগান।
খুবলে নেবে মায়ের পেটের আঁতুড় ভাঙা প্রাণ?
রূপকথারই রাজপুত্তুর পাঁজর পাতা ঢালে
স্লোগান নিয়ে মাড়িয়ে পথের রৌদ্র তপ্ত আলে।
বাক্য যত বাংলা হবে, নিরস্ত্র সংগ্রাম।
বন্যরা তো বোঝে না হায়, কি আবেগের দাম!
মায়ের মুখে তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে বন
খোকা যে রোজ জয় করে নেয় রাজকন্যার মন।
তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে রাক্ষসীদের বাড়ি
ভূত প্রেত আর খোক্ষসেদের সৈন্য সারি সারি।
তারাও তো বোঝে মায়ের মমতারই ভাষা
শুক পাখি আর শারির মুখে কত না ভরসা।
সেই ভরসায় বুক বেঁধে আজ খোকা গেল পথে।
বলে গেল ফিরবে। তবে, বাংলা ভাষায় মেতে।
রাজকুমারী, রাজমাতা আর রাজ্য সমেত লোকে
আর পেল না রাজপুত্তুরে, বুক ভাসাল শোকে।
কিন্তু খোকার রূপকথা আর শুয়োরানীর পাঠ,
মায়ের মুখে অব্যাহত তেপান্তরের মাঠ।
বন্যরা আজ হার মেনেছে
বনের ডেরায় লুকিয়ে গেছে।
পৃথিবীতে ছড়িয়েছে মায়ের ভাষার কথা।
আজ খোকার স্মৃতি জড়িয়ে বুকে,
কৃষ্ণচূড়ার সলিল চোখে,
একুশ অমর গাথা!











