দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, একটা লাইব্রেরি আর একটা বাগান থাকলে জীবনে আর কিছুই লাগে না। বই পড়লে জ্ঞান বাড়ে, আর জ্ঞান বাড়লে বাড়ে সৃজনশীলতার পরিধি। লাইব্রেরি অন্ধকার সমাজকে আলোকিত করতে সাহায্য করে। পিছিয়ে পড়া সমাজকে এগিয়ে নিতে হলে লাইব্রেরির প্রয়োজন। গতকাল শনিবার বিকেলে নগরীর মাদারবাড়ী এলাকায় আবদুল্লাহ মেমোরিয়াল লাইব্রেরির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
ব্যবসায়ী মুজিবুল হক পেয়ারুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম, ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের এবং কাউন্সিলর আতাউল্লাহ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ও কবি গোফরান উদ্দিন টিটু, লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা মো. হাবিবুল্লাহ এবং মাজহারুল হক তানহা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম এ মালেক বলেন, মানুষ পরাজিত হওয়ার জন্য পৃথিবীতে আসে নাই। সবসময় পজিটিভ চিন্তা করতে হবে। জানার কোনো শেষ নেই, জানার চেষ্টা বৃথা তাই বলে হাল ছেড়ে দিলে চলবে না। জীবনে সফলতা পেতে হলে নিজেকে শাণিয়ে নিতে হবে জ্ঞান আহরণের দ্বারা। আর জ্ঞান আহরণের সবচেয়ে বড় উৎস লাইব্রেরি। এ প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে আমার বাবা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেক ১৯৩২ সালে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। লাইব্রেরির প্রতি তাই আমার বিশেষ দুর্বলতা আছে। জীবন কখনো থেমে থাকবে না। আমার পরে আরেকজন আসবে। আমার আগেও এসেছিল।
তিনি শিক্ষকদের মর্যাদা প্রসঙ্গে বলেন, এ জীবনে কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়। একমাত্র মা-বাবা আর শিক্ষক নিঃস্বার্থভাবে বিলিয়ে দেন। তাই যারা শিক্ষা দেন তারা সকলেই নমস্য ব্যক্তিত্ব। আমেরিকায় একজন প্রেসিডেন্ট বিদায় নিলে তার সম্মানে একটি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা হয়। আমাদের দেশের কথা নাই বা বললাম। এ অবস্থায় আমি লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা হাবিবুল্লাহ সাহেবকে ধন্যবাদ দিতে চাই। তিনি চাইলে এ অর্থ থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজির পেছনে খরচ করতে পারতেন। কিংবা ব্যান্ড শোর আয়োজন করতে পারতেন। আমরা পুরো বিশ্বকে বদলে দিতে চাই, কিন্তু নিজেকে বদলাতে চাই না। একটি শিশু ধীরে ধীরে মানুষে পরিণত হয়। কিন্তু মনুষ্যত্ব অর্জনে বইয়ের বিকল্প কিছু হতে পারে না।
কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, লাইব্রেরি মানুষের মনের চিকিৎসালয়। মানুষের মনকে বিকশিত করতে প্রথম প্রয়োজন স্রষ্টার সান্নিধ্য, দ্বিতীয়ত চাই বইয়ের সাথে সম্পর্ক। বর্তমান প্রজন্ম বইয়ের বদলে মোবাইলের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলছে, যা আমাদের জন্য অশনি সংকেত। বই মৃত দেহে প্রাণের সঞ্চার করে। লাইব্রেরি অতীত ও বর্তমানের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করে। এমন একটি মহৎ উদ্যোগ খুবই বিরল।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, এ লাইব্রেরির মাধ্যমে পুরো মাদারবাড়ী এলাকা আলোকিত হবে। মানুষ অনেক কিছু করতে চায়, কিন্তু লাইব্রেরি করতে চায় না। এটা বিরল দৃষ্টান্ত। আমি অনুপ্রাণিত হলাম। মেয়র মহোদয়কে অবশ্যই আমি প্রস্তাব দেব যাতে ৪১টি ওয়ার্ডে এ ধরনের ৪১টি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
কাউন্সিলর আতাউল্লাহ চৌধুরী বলেন, মাদারবাড়ীতে এটাই প্রথম লাইব্রেরি। এটি ২৯ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ডে পড়েছে। আয়োজকদের কাছে অনুরোধ থাকবে, আমার ৩০ নম্বর ওয়ার্ডেও যেন এমন একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়। আমি সহযোগিতা করব।












