মীরসরাই উপজেলা থেকে নির্বাচিত এমপি নুরুল আমিন ১৯৯৮ সালে উপজেলার ৫নং ওচমানপুর ইউনিয়নের একজন ওয়ার্ড মেম্বার নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন থেকে মানুষের ভালবাসায় প্রাণিত হয়ে পর্যায়ক্রমে অবশেষে তিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেন, আপনারা দোয়া করবেন আমি যেন গণমানুষের ভালবাসা ও আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিদান দিতে পারি। ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টায় আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার বেসরকারিভাবে তাঁকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
ভোটের ফল অনুযায়ী, বিএনপির প্রার্থী নুরুল আমিন ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৩৮ ভোট। নুরুল আমিন ৪৪ হাজার ২৬১ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। মীরসরাই উপজেলার ফেনী নদীর দক্ষিণ পাড় ঘেঁষা ওচমানপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম পাতাকোটে ১৯৬৮ সালের ১ জানুয়ারি জন্ম নুরুল আমিনের। তাঁর বাবার নাম মাওলানা আবুল খায়ের। তাঁর স্ত্রীর নাম নুরুন্নাহার। চার ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে তাঁর।
নুরুল আমিন জানান, সমাজসেবার তীব্র ইচ্ছা থেকে ১৯৯৮ সালে প্রথম ইউপি সদস্যপদে নির্বাচন করেন। মানুষের বিপুল সমর্থনে তখন জয় লাভ করে প্রথমবারের মতো জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। পরে ২০০৩ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে জয় লাভ করেন। ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন। তবে তাঁকে সেই পদ থেকে অপসারণ করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীগণ তাঁকে এলাকায় গণসংযোগও করতে দেয়নি। অবশেষে এবার জাতীয়তাবাদী দলের মনোনয়ন পেলেন এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটে বিজয়ী হলেন।
নুরুল আমিন বলেন, ‘মীরসরাইয়ের মানুষ ভালোবেসে আমাকে ইউপি সদস্যের পদ থেকে আজকের এই পর্যায়ে এনেছেন। সাধারণ মানুষের আস্থা আর বিশ্বাস অর্জন করতে পারাটাই আমার যোগ্যতা। নানা সময় দলের নানান পদে কাজ করতে গিয়ে অনেক ঘাত–প্রতিঘাত সইতে হয়েছে। তবু কখনো বিশ্বাস হারাইনি। সর্বশেষ দল আমাকে মনোনয়ন দিয়ে যে সম্মান দিয়েছে, আমি তার মর্যাদা রক্ষার চেষ্টা করব।’











