উদ্বোধন হলেও শুরু হয়নি পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম

চট্টগ্রামে সাইবার পুলিশ সেন্টার ফরেনসিক ইউনিটে ৯ কর্মকর্তার যোগদান, প্রাথমিক কাজ শুরু

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ at ৯:৪২ পূর্বাহ্ণ

সাইবার অপরাধ তদন্তে ডিজিটাল আলামত পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের জন্য চট্টগ্রামে সাইবার পুলিশ সেন্টার উদ্বোধন করা হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফরেনসিক ইউনিটে মাত্র ৯ জন কর্মকর্তা যোগ দিয়ে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন। তবে সাইবার ইউনিটের প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও পদায়ন প্রক্রিয়া চলমান থাকায় কেন্দ্রটির পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে সাইবার অপরাধ তদন্তে ডিজিটাল আলামত পরীক্ষার জন্য ঢাকার ওপর নির্ভরতা এখনো কাটেনি। গত ১৪ অক্টোবর নগরের খুলশী থানাধীন দামপাড়া পুলিশ লাইনের ভেতরে সিআইডি কার্যালয়ের পাশে সাইবার পুলিশ সেন্টার উদ্বোধন করা হয়। চট্টগ্রাম ও আশপাশের অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধের তদন্তে গতি আনা এবং ডিজিটাল আলামত পরীক্ষার জন্য ঢাকামুখী নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উদ্বোধনের পরও প্রয়োজনীয় জনবল ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় কেন্দ্রটির কার্যক্রম এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাইবার অপরাধের তদন্তে মুঠোফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, হার্ডডিস্ক ও মেমোরি কার্ডের মতো ডিজিটাল ডিভাইস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলামত। এসব যন্ত্রে সংরক্ষিত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধের ধরন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে যোগাযোগ, লেনদেন এবং ঘটনার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এমনকি বিশেষায়িত প্রযুক্তির সাহায্যে মুছে ফেলা তথ্যের কিছু অংশও উদ্ধার করা সম্ভব। এসব আলামত পরীক্ষার সুযোগ স্থানীয় পর্যায়ে সম্প্রসারিত হলে তদন্তের সময় কমানোর পাশাপাশি মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহও সহজ হতে পারে।

চট্টগ্রামে স্থাপিত চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় ফরেনসিক রিসেপশন, মোবাইল ফরেনসিক ল্যাব ও প্রি–ট্রিটমেন্ট ল্যাবের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এসব সুবিধার মাধ্যমে ডিজিটাল আলামত গ্রহণ, প্রাথমিক প্রক্রিয়াকরণ, পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল ও পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় প্রত্যাশিত সেবা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

এর মধ্যে চট্টগ্রামে সাইবার অপরাধসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। গত সেপ্টেম্বরে নগরের খুলশী এলাকার একটি আটতলা ভবন থেকে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে মুঠোফোন ও ল্যাপটপসহ ১৭০টি ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছিল। সাইবার সুরক্ষা আইনে করা ওই মামলায় জব্দ করা ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য উদ্ঘাটন মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় সাইবার পুলিশ সেন্টার পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে এ ধরনের মামলার ডিজিটাল আলামত পরীক্ষায় বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

সাইবার অপরাধসংক্রান্ত মামলার সংখ্যাও তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে সংকট সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করে সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে ১ হাজার ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৯৬৭টি বিচারাধীন। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ জেলায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাইবার আইনে ৫০টি মামলা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ডিজিটাল আলামত পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানো এবং তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাইবার পুলিশ সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দেশের আটটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের কথা জানান। সাইবার অপরাধ শনাক্ত ও দমনে এসব ল্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে চট্টগ্রামে কেন্দ্রটি উদ্বোধনের পরও পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় ঘোষিত উদ্যোগের সুফল পেতে আরও অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, সাইবার ইউনিটের কার্যক্রম এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হয়নি। ফরেনসিক ইউনিটের নয়জন কর্মকর্তা যোগ দিয়েছেন এবং তারা প্রাথমিকভাবে কাজ করছেন। তবে সাইবার ইউনিটের জনবল নিয়োগ ও পদায়ন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দ্রুত এ কার্যক্রম শুরু হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে যেসব কাজ আসছে, সেগুলো ঢাকার সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্পন্ন করা হচ্ছে। জনবল ও প্রয়োজনীয় সেটআপ পুরোপুরি প্রস্তুত হলে চট্টগ্রামে পূর্ণাঙ্গভাবে সাইবার ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সাইবার পুলিশ সেন্টারের অবকাঠামো ও পরীক্ষাগার স্থাপন ডিজিটাল অপরাধ তদন্তে স্থানীয় সক্ষমতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এর কার্যকর সুফল পেতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা এবং নিয়মিতভাবে আলামত পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে কেন্দ্রটি স্থাপনের মাধ্যমে যে দ্রুত ও স্থানীয় পর্যায়ে সাইবার অপরাধ তদন্তের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে বিলম্ব হতে পারে।

চট্টগ্রামে পূর্ণাঙ্গ সাইবার পুলিশ সেন্টার চালু হলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাইবার নিরাপত্তা বহুলাংশে নিশ্চিত হবে বলেও সূত্র মন্তব্য করেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাঁশখালীর ব্যবসায়ীকে রাখা হয়েছিল চোখ-হাত বেঁধে, চার দিনে খাবার দেয়া হয়েছে একবার
পরবর্তী নিবন্ধবাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ