জাল–জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহকের ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে ইসলামী ব্যাংকের এক কর্মচারীকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে সমপরিমাণ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন– আশরাফুল আলম। তিনি ঘটনার সময় চট্টগ্রামের ইসলামী ব্যাংক লোহাগাড়া শাখায় এস সি জি (মেসেঞ্জার কাম গার্ড) পদে কর্মরত ছিলেন। নড়াইলের লোহাগাড়া থানার দিঘলিয়া এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল রায় ঘোষণার সময় কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন না। তিনি পলাতক। এ জন্য তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
দুদক পিপি রেজাউল করিম রনি দৈনিক আজাদীকে বলেন, আশরাফুলকে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় ৫ বছর, ৪২০ ধারায় ১ বছর, ৪৬৫ ধারায় ১ বছর, ৪৬৭ ধারায় ১ বছর, ৪৬৮ ধারায় ১ বছর, ৪৭১ ধারায় ১ বছর ও দুদক আইনের ৫(২) ধারায় ১ বছরসহ মোট ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। এছাড়া তাকে আত্মসাৎকৃত টাকার সমপরিমাণ জরিমানাও করা হয়েছে। মামলার অপর আসামি শেখ আহমদকে খালাস দেওয়া হয়েছে জানিয়ে দুদক পিপি বলেন, শেখ আহমেদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিচারক তাকে খালাস দিয়েছেন। বিচারপ্রক্রিয়ায় ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়া হয় বলেও জানান পিপি রেজাউল।
আদালতসূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ৯ জুলাই ও ১৭ জুলাই গ্রাহকের ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের ইসলামী ব্যাংক লোহাগাড়া শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ঈসা বাদী হয়ে আশরাফুল আলমসহ দুই জনের বিরুদ্ধে লোহাগাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার কিছুদিন আগে ইসলামী ব্যাংক লাকসাম শাখা থেকে বদলি হয়ে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া শাখায় আসেন আশরাফুল উল্লেখ করে মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৪ সালের ২০ জুলাই গ্রাহক ওসমান গনি তার হিসাব থেকে আড়াই লাখ টাকা উত্তোলনের জন্য একটি চেক জমা দেন। তখন দেখা যায় যে, তার একাউন্টে কোন টাকা–ই নেই। তা দেখে গ্রাহক চ্যালেঞ্জ করলে উক্ত একাউন্টটি যাচাই করা হয়। এতে উঠে আসে–গ্রাহক ওসমান গনির একাউন্টে থাকা ১১ লাখ টাকা শেখ আহমেদ নামের অপর এক গ্রাহকের একাউন্টে জমা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা উত্তোলনও হয়েছে। একটি ভূয়া চেকের মাধ্যমেই এ কাজটি করা হয়। এজাহারে বলা হয়, যোগদান পরবর্তী আশরাফুল আলম একটি দামী ফোন ক্রয় করেছিলেন। সে বিষয়টি আমলে নিয়ে তার বাসায় ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়। এ তিন কর্মকর্তা তার বাসা থেকে ব্যাংকের বিভিন্ন গ্রাহকের চেক, সিল, নগদ টাকা ও ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার খাতাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেন।
এজাহারে বলা হয়, এ ঘটনার পর জামাল উদ্দিন নামের অপর গ্রাহকের ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে মিনু আক্তার নামের আরেক গ্রাহকের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। পরে মিনু আক্তারের চেকবই থেকে কৌশলে চেক চুরি করে সেই টাকা উত্তোলনও করেন আশরাফুল। গ্রাহকের কাছ থেকে উত্তোলনকৃত টাকার মধ্য থেকে ৭ লাখ টাকা নড়াইলের ইসলামী ব্যাংক লোহাগাড়া শাখায় থাকা নিজের একাউন্টে জমা করেন আশরাফুল– বলেও এজাহারে বলা হয়। আদালতসূত্র জানায়, তদন্ত পরবর্তী চার্জশিট দাখিল হলে ২০২৩ সালের ২ জানুয়ারি আশরাফুলসহ ২ আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরু করা হয়।














