যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই করেছে ইসরায়েল এবং লেবানন। এই চুক্তি নিয়ে বিভক্তি দেখা দিয়েছে লেবাননে। চুক্তির সমর্থকরা একে স্বাগত জানিয়েছেন। খবর বাংলানিউজের।
আবার অন্য অনেকেই চুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে পথে নেমেছেন। তারা মনে করছেন, এই চুক্তি আসলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে নতিস্বীকার করার সামিল। শনিবার থেকে লেবাননে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ইসরায়েলের সঙ্গে লেবাননের চুক্তি সই হয়েছে ওয়াশিংটনে গত শুক্রবার। চুক্তি সইয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন দুই দেশের রাষ্ট্রদূত এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। চুক্তিতে বলা হয়েছে, লেবাননে ইরান সমর্থিত প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাকে নিরস্ত্র করতে হবে। তার পরিবর্তে লেবানন থেকে সেনা সরিয়ে নেবে ইসরায়েল। সেই জায়গায় দেশের ভূখণ্ডে লেবাননের সেনাবাহিনীর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। হিজবুল্লাহ আগেই জানিয়েছে, এই চুক্তি তারা মানবে না। শর্ত বাস্তবায়নেও কোনও সহায়তা করবে না। ইসরায়েল–লেবানন চুক্তি আপাতত প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। কবে থেকে এর বাস্তবায়ন শুরু হবে তা স্পষ্ট জানা যায়নি। রাজধানী বৈরুতে মূলত হিজবুল্লাহ সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিল করছেন।
টায়ার জ্বালিয়েও বিক্ষোভ হচ্ছে সরকারি নীতির বিরুদ্ধে। বিক্ষোভকারীদের কারও কারও হাতে হিজবুল্লার পতাকা আছে। তাদের মতে, চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের দাবির কাছে নতিস্বীকার করছে লেবানন। এতে দেশের ভেতরেও বিভাজন তৈরি হচ্ছে। লেবাননের সার্বভৌমত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ বিক্ষুব্ধদের।
হিজবুল্লাহ প্রধান নঈম কাশেম শনিবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তি খুবই অবমাননাকর ছাড়। এতে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ক্ষুন্ন হয়েছে। অনেক কঠিন পরিস্থিতিতেও আমরা যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়িনি। আমরা তা ছাড়বও না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়েছিল। তার প্রতিবাদেই ইসরায়েলে হামলা চালায় লেবাননের ইরান সমর্থিত প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহ। এরপর হিজবুল্লাহকে দমন করতে এবং দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে ইসরায়েলি সেনা লেবাননে ঢুকে পড়ে।
মার্চের শুরু থেকে এখনও সেই ভূখণ্ড ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দখলে রয়েছে। ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি সমর্থন করছেন লেবাননের বাসিন্দাদের একাংশ। তাদের বক্তব্য, এর মাধ্যমে লেবাননে ইরানের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ কিছুটা কমবে। হিজবুল্লার দাপটও খর্ব হবে। ইসরায়েল হিজবুল্লার সংঘর্ষে গত কয়েক মাসে লেবাননে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত এবং নিখোঁজ আরও অনেকে। আরও বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। আমেরিকার মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে সেই ভূখণ্ডেই শান্তি ফেরানোর চেষ্টা চলছে। তবে তার বাস্তবায়ন এখনও অনিশ্চিত।










