পারমাণবিক অস্ত্র রাখা কেন প্রয়োজন? ইরানের উদাহরণ টেনে সেকথাই এবার বুঝিয়ে দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উন। গত মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার আইনসভা সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলিতে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধই প্রমাণ করেছে যে, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে সঠিক কাজই করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ ও আগ্রাসনের’ অভিযোগ করেছেন কিম। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও ‘মিষ্টি কথা’ প্রত্যাখ্যান করে উত্তর কোরিয়া ঠিক কাজই করেছে। কিম ঘোষণা দিয়ে বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান এখন আর বদলাবে না। খবর বিডিনিউজের।
উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস হল, যেসব দেশের পারমাণবিক অস্ত্র নেই তারা মার্কিন সামরিক শক্তির মুখে কার্যত অরক্ষিত, আর যাদের এই অস্ত্র আছে তারা আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম। ইরানে চলমান যুদ্ধ পিয়ংইয়ংয়ের এই বিশ্বাসকেই আরও পোক্ত করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমপ্রতি কিমের সঙ্গে পুনরায় আলোচনার ইঙ্গিত দিলেও কিমের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পূর্বের আলোচনার ধরন এবার বদলে যাবে। উত্তর কোরিয়া এখন আর নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী নয়। কিম জানিয়েছেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে পুনরায় আলোচনায় বসতে রাজি, তবে শর্ত হল–যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তর কোরিয়াকে একটি ‘পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র’ হিসেবে মেনে নিতে হবে এবং তাদের প্রতি ‘বৈরি নীতি’ ত্যাগ করতে হবে।
ইরান বা ভেনেজুয়েলার মতো দেশের তুলনায় উত্তর কোরিয়ার সক্ষমতা ভিন্ন। দাবি করা হয়, পিয়ংইয়ংয়ের কাছে কয়েক ডজন পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং এমন উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা রয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের যে কোনও স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম। যদিও অস্ত্রগুলো কখনও পুরোপুরি পরীক্ষা করা হয়নি। তবে সমপ্রতি উত্তর কোরিয়া নতুন যুদ্ধজাহাজ থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ এবং পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন রকেট ছোড়ার মহড়া চালিয়েছে। কিম তার কিশোরী কন্যা কিম জু আয়ে–কেও এসব সামরিক মহড়ার কেন্দ্রে রাখছেন। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে এই বার্তাই দিতে চাইছেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল স্থায়ী নয়, বরং এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চলবে।











