সবাই সৌন্দর্যের পূজারী। নিখুঁত উজ্জ্বল ত্বক সব নারীরই কাম্য তা সে এগারো বছরের কিশোরী হোক কিংবা ষাট বছরের বৃদ্ধা। বেশিরভাগ নারীর একটা নির্দিষ্ট সময় কাটে সৌন্দর্য চর্চায়। একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয় প্রসাধনী ও পার্লারে। আফসোসের ব্যাপার হলো আমরা নারীরা সুন্দর হওয়ার জন্য ত্বকের বাইরের যে যত্ন নিই তার সিকিভাগও কিন্তু শরীরের ভেতরের যত্ন নিই না। বাস্তব হলো সৌন্দর্যের শেকড়টা কিন্তু অন্দরমহলেই। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মতান্ত্রিক জীবন, সময়মতো প্রয়োজনীয় ঘুম এবং নিয়মিত নিজের শরীর ও মনের কিছু যত্ন। ‘মানুষ বয়সে বুড়ো হয় না, হয় অযত্ন অবহেলায়।’– সম্প্রতি দেশের স্বনামধন্য টিভি তারকার এই মন্তব্য নারীদের বাস্তবতার কথাই বলে। অভিনেত্রী এ্যঞ্জেলিনা জোলি সেই একইরকম রয়ে গেছেন,অভিনেত্রী হেমামালিনী এখনো ড্রিমগার্ল, এমনকি আমাদের জয়া আহসান যেন সদ্য তরুণী অথচ সেই এই একই বয়সী আপনি আমি নিজেরই অযত্ন অবহেলায় প্রকৃতিপ্রদত্ত সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলেছি। কেউ কেউ সেই হীনমন্যতা ঢাকতে চেষ্টা করছি অতিরিক্ত প্রসাধনীর আড়ালে। অনেক তো হলো, আসুন এবার একটু নিজের যত্ন নিই। আমাদের আজকে মুদ্রার নাম ইন্দ্রমুদ্রা যা সৌন্দর্যবর্ধক মুদ্রা হিসেবে পরিচিত। আসুন জেনে নিই এ বিষয়ের খুঁটিনাটি।
কিভাবে করতে হবে
ইন্দ্রমুদা্র জল তত্ত্বের মুদ্রা। আমাদের হাতের কণিকা বা কণিষ্ঠাঙ্গুলি জলতত্ত্বের প্রতিনিধিত্ব করে এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি অগ্নিতত্ত্বের। তাই বৃদ্ধাঙ্গুলির মাথা বা উপরের অংশ কণিষ্ঠাঙ্গুলির ডগা বা উপরের অংশের সাথে সংযুক্ত হলে (থাম্বস টিপ এ্যান্ড লিটল ফিঙ্গারস টিপ জয়েন্ট ) হাতের যে ভঙ্গিটি তৈরি হয় তার নাম ইন্দ্রমুদ্রা। অন্য তিনটি আঙ্গুল অর্থাৎ তর্জনী, মধ্যমা ও অনামিকা সোজা থাকবে। এই মুদ্রার মূল উদ্দেশ্য শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় রাখা। এই মুদ্রা পদ্মাসন, সুখাসন বা যেকোনো সহজ আসনে বসে হাতে মুদ্রা করতে হবে এবং এসময় হাতের পিঠ হাঁটুর উপরে থাকবে। নিয়মিত দশ থেকে পনেরো মিনিট চর্চা করা ভালো, বিশেষ প্রয়োজনে কোনো বিশেষজ্ঞ বা গুরুর পরামর্শে বাড়ানো যেতে পারে।
উপকারিতা:
১. ইন্দ্রমুদ্রা আমাদের শরীরের জলে ঘাটতিজনিত সমস্যা দূর করে।
২. প্রাকৃতিকভাবেই সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
৩.এই মুদ্রা চর্চায় ব্রণ–এর সম্যসা দূর হয়, ত্বকে সহজে বলিরেখা এবং বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না ।
৪.যাদের কিডনিজনিত রোগ আছে তাদের জন্য বিশেষ উপকারী। এছাড়া বহুমুত্র ও মূত্রনালীজনিত সমস্যার জন্যও উপকারী হতে পারে।
৫.এই মুদ্রা এক্সিমা দূর করে।
৬.ডিহাইড্রেশন বা পানিস্বল্পতাজনিত শরীরিক অসুস্থতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
৭.মাসল্ ক্র্যাম্প বা মাসকুলার পেইন হলে ইন্দ্রমুদ্রা চর্চায় উপকার পাওয়া যায়।
৮.আইবার্ন বা ড্রাইনেস থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
৯.শীতকালীন ত্বকের শুষ্কতা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য চর্চা করা যায়।
১০.এ্যাসিডিটি এবং বুকজ্বালার ক্ষেত্রেও ইন্দ্রমুদ্রা চর্চায় উপকার করা যায়।
যারা ইন্দ্রমুদ্রা করবেন না:
যারা সর্দি, ঠান্ডা লাগাজনিত নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি, কাশি, ঠান্ডাজনিত বুকের সমস্যা, চোখ দিয়ে জল পড়ার সমস্যায় ভুগছেন তাদের ইন্দ্রমুদ্রা প্র্যাকটিস করা যাবে না।












