‘নমঃ নমঃ নমঃ বাংলাদেশ মম, চিরমনোরম চির–মধুর। এই চিরমনোরম বাংলার প্রতিটি ধূলিকনা মিশে আছে ত্যাগ আর বীরত্বের রক্তে। আমাদের ইতিহাস কোনো সাধারণ গল্প নয়, এটি শোষণের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়ানোর এক মহাকাব্য। হাজার বছরের পথ পরিক্রমায় পাল, সেন ও মুঘোল শাসন পেরিয়ে আমরা গড়েছি আমাদের নিজস্ব সত্তা। আমাদের এই বাংলাকে নিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, পপ বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল পুণ্য হউক, পুণ্য হউক, পুণ্য হউক হে ভগবান’ –সেই পুণ্য ভূমির মর্যাদা রক্ষায় ১৯৫২ সালে আমরা মাতৃভাষার জন্য মুক্ত দিয়েছি আর ১৯৭১ সালে ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে ছিনিয়ে এনেছি স্বাধীনতার লাল সূর্য। ইতিহাসের সেই ধারা আজও বহমান। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে যে এ দেশের মানুষ অন্যায়ের কাছে হার মানতে জানে না। আবু সাঈদ ও মুগ্ধদের মতো তরুণদের আত্মত্যাগ আমাদের ইতিহাসে এক নতুন এবং সাহসী অধ্যায় যুক্ত করেছে।
কিন্তু শুধু লড়াই নয়, আমাদের আছে এক সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার। মহাস্থানগড় থেকে পাহাড়পুর কিংবা ষাট প্রতিটি ইটে মিশে আছে আমাদের গম্বুজ গৌরবের পরিচয়। আমাদের ঐতিহ্যের অঙ্গে জড়িয়ে আছে জামদানি, নকশি কাঁথা আর ইলিশের পদ। গ্রামবাংলার বাউল গান আর ভাটিয়ালির সুর আমাদের হৃদয়ের স্পন্দন। এ দেশের মানুষের সরলতা নিয়ে লেখক হুমায়ূন আহমেদ লিখেছিলেন, ভোরে মানুষের কষ্ট দেখাও কষ্টের কাজ। আবার মানুষের আনন্দ দেখাও আনন্দের কাজ। বাংলাদেশের মানুষ অল্পতে যেমন কাঁদে তেমনি সামান্য আনন্দেই হাসতে জানে। এ ইতিহাস আমাদের অহংকার আর ঐতিহ্য আমাদের পরিচয়। তবে আজ সময়ের দাবি হচ্ছে এই ঐতিহ্যকে শুধু লালন করা নয় বরং একে আগলে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়া, আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে, শেকড়কে ভুলে কেউ কখনো শিখরে পৌঁছাতে পারে না। আমরা যত আধুনিকই হই না বেশ, আমাদের ভাষা, আমাদের কৃষ্টি আর আমাদের বীরত্ব গাথা যেন আমাদের যাপিত জীবনের প্রতিটি কাজে প্রতিফলিত হয়। পরিশেষে কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের সেই কালজয়ী পতির মাধ্যমে বলতে চাই– ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকে তুমি, সকল দেশের রানি সে যে– আমার জন্মভূমি’। আসুন আমরা ইতিহাসকে জানব, ঐতিহ্যকে সম্মান করব এবং আমাদের কর্মের মাধ্যমে প্রিয় বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবো।









