উইমেন’স টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইয়ে টানা চতুর্থ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। কাঠমান্ডুতে গতকাল শনিবার বাংলাদেশ ৯ রানে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে দেয়। বাংলাদেশ ১৫৪ রানের লক্ষ্য দিয়ে আয়ারল্যান্ডকে ১৪৪ রানে থামিয়ে দেয়। এই জয়ের ফলে অপরাজিত থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে বাংলাদেশ। চার ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৮। এক ম্যাচ কম খেলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপে দুই নম্বরে আছে আয়ারল্যান্ড। বাংলাদেশের শারমিন আক্তারের দায়িত্বশীল ফিফটি আর সোবহানা মুস্তারির দারুণ ক্যামিও ইনিংসে লড়াইয়ের পুঁজি পায় নিগার সুলতানার দল। অবশ্য গ্যাবি লুইসের চমৎকার ইনিংসে জয়ের আশা জাগিয়েছিল আয়ারল্যান্ড। তবে তার লড়াই থামিয়ে দিয়েই বাংলাদেশ জয়ের বন্দরে পৌঁছে। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই জুয়াইরিয়া ফেরদৌসের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১১ রান করেছিলেন জুয়াইরিয়া। দ্বিতীয় উইকেটে দলকে টানতে থাকেন দিলারা আক্তার ও শারমিন। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে তারা যোগ করেন ৭০ রান। ২৭ বলে পাঁচ চারে ৩৫ রানের ইনিংস খেলে দিলারা বোল্ড হলে ভেঙে যায় এ জুটি। বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি অধিনায়ক নিগারও। ১৩ রান করেন অধিনায়ক। এদিকে আসরে নিজের দ্বিতীয় পঞ্চাশ ছুঁয়েই ফেরেন শারমিন। তিনে নেমে তিনি ৪৫ বলে এক ছক্কা ও পাঁচ চারে করেন ৫২ রান। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও জেতেন তিনিই। শেষ দিকে বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে দলকে দেড়শ রানে নিয়ে যান মুস্তারি। শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ১৬ বলে তিন ছক্কা ও এক চারে এই মিডল অর্ডার ব্যাটার করেন ৩০ রান। স্বর্ণা ১ এবং রাবেয়া ৩ স্বল্প রানে ফেরেন। ২০ ওভারে বাংলাদেশ তোলে ৭ উইকেটে ১৫৩ রান।
আয়ারল্যান্ড দলের জেন ২৪ রান দিয়ে ২টি এবং কেলি ৪৪ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট তুলে নেন অ্যালানা, প্রেন্ডারগাস্ট এবং ম্যাকব্রাইড।
রান তাড়ায় শুরুটা ভালো করে কিন্তু আয়ারল্যান্ড। অ্যামি হান্টারের সঙ্গে লুইস এগিয়ে নেন দলকে। ৫৩ রানে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন হান্টার। হান্টার ৩৫ রান করেছিলেন। তিনে নেমে তেমন কিছু করতে পারেননি ওর্লা প্রেন্ডারগাস্ট। ১২ রানে আউট হতে হয় তাকে। এক বল পর লিয়া পলকেও বিদায় করে দেন স্বর্ণা আক্তার। পল কোন রানই করতে পারেননি। ডেল্যানি ১৩ রান করেন এবং স্টকেল ৮ রানে অপরাজিত থাকেন। খুব বেশি উইকেট নিতে না পারলেও আইরিশদের দ্রুত রান করতে দেননি বাংলাদেশের বোলাররা। আয়ারল্যান্ডের আশা হয়ে টিকে থাকা লুইসকে থামান রাবেয়া খান। লুইস এক ছক্কা ও ১০ চারে ৫৮ বলে করেন ৭৩ রান। আরেক ওপেনার হান্টার পরে মাঠে নামলেও দলের হার এড়াতে পারেননি।
দুই ওভারে ১৭ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন স্বর্ণা। কোনো উইকেট না পেলেও চার ওভারে কেবল ১৮ রান দেন রিতু মণি। মারুফা আক্তার দেন কেবল ২০ রান। মারুফা, নাহিদা,ফাহিমাও উইকেট পাননি। রাবেয়া লুইসের উইকেটটি পান ৩৪ রান দিয়ে। আয়ারল্যান্ড থামে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৪৪ রান করে।












