গত দুই বছরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের আয় কমলেও হাতে জমা নগদ টাকা ও সম্পদ দুটোই বেড়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রংপুর–৩ আসনের প্রার্থী হতে যে হলফনামা তিনি জমা দিয়েছেন, তার সঙ্গে ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামার তুলনা করে এ তথ্য মিলেছে। খবর বিডিনিউজের।
জিএম কাদের হলফনামায় নিজেকে রাজনীতিবিদ ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এবার তিনি শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা; বিরোধী দলীয় নেতার ভাতা হিসেবে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা আয় দেখিয়েছেন।
আর দুই বছর আগে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তিনি বাড়ি/দোকান ভাড়া থেকে ৩ লাখ টাকা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত থেকে ৩০ লাখ টাকা এবং বিরোধী দলীয় নেতার ভাতা হিসেবে ১১ লাখ টাকা আয় দেখিয়েছিলেন। সে সময় তার নগদ টাকার পরিমাণ ছিল ৪৯ লাখ ৮৮ হাজার ২৫৩ টাকা। ব্যাংকে জমা ছিল প্রায় ৩৬ লাখ টাকা। এছাড়া ১ লাখ ১২ হাজার সোনা বা মূল্যবান ধাতুর গয়না ছিল তার মালিকানায়।
আর এবারের হলফনামায় জিএম কাদের হাতে নগদ টাকার পরিমাণ দেখিয়েছেন ৬০ লাখ ৩২ হাজার ৪০৫ টাকা। ব্যাংকে জমা টাকার তথ্য হলফনামায় না দিয়ে আলাদা কাগজে জমা দেওয়ার কথা লিখেছেন। সঞ্চয়পত্র বা ফিক্সড ডিপোজিটে ৪০ লাখ টাকা থাকার তথ্য দিয়েছেন। গয়নার পরিমাণ আগের মতই দেখিয়েছেন।
তার স্ত্রী শেরীফা কাদেরের পেশার ঘরে লেখা হয়েছে সংগীত শিল্পী ও ব্যবসা। দুই বছর আগে তার হাতে নগদ টাকার পরিমাণ ছিল ৫৯ লাখ ৫৯ হাজার ৫৬৩ টাকা। এবার তা কমে হয়েছে ৪৮ লাখ ৯০ হাজার ৯৩৮ টাকা।
জিএম কাদেরের অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য দেখানো হয়েছে এক কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর সম্পদের মূল্য এক কোটি ৭২ লাখ টাকা। জি এম কাদেরের কৃষি জমি না থাকলেও নিজের ও স্ত্রীর নামে লালমনিরহাট এবং ঢাকায় রয়েছে বাড়ি।
লালমনিরহাট ও ঢাকায় জিএম কাদেরের নামে থাকা বাড়ির মূল্য এক কোটি ৫৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ঢাকার স্ত্রীর বাড়ির দাম ৭০ লাখ টাকা। জি এম কাদেরের ব্যবহৃত গাড়ির দাম ৮৪ লাখ ৯৮ হাজার ৪৭৫ টাকা। আর স্ত্রীর রয়েছে ৮০ লাখ টাকার গাড়ি।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের নামে ফৌজদারি মামলা আছে ১২টি, যা তদন্তাধীন এবং ব্যক্তিগত ঋণের পরিমাণ ১২ লাখ টাকা।












