আরএস রেকর্ড অনুযায়ী খাল পুনরুদ্ধার করা হবে : মেয়র

জলাবদ্ধতা নিরসনে চসিকের খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ১৭ মার্চ, ২০২৬ at ৬:০১ পূর্বাহ্ণ

আগামী বর্ষাকে সামনে রেখে এপ্রিল মাসজুড়ে নগরের বিভিন্ন খালানালা পরিষ্কার এবং খনন কার্যক্রম চলবে জানিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এসময় খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে বলেন, খাল খনন ও পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। গতকাল সোমবার দুপুরে নগরের উত্তর কাট্টলীর ইশান মহাজন রোড কালী বাড়ি এলাকায় ছমিউত আলী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন মেয়র। জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এ খাল খনন কর্মসূচি শুরু করে।

ডা. শাহাদাত বলেন, আরএস রেকর্ড অনুযায়ী খালের নির্ধারিত প্রস্থ ও দৈর্ঘ্য পুনরুদ্ধার করা হবে। খালের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। এ সময় তিনি খাল পুনঃখনন ও উচ্ছেদ কার্যক্রমে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় খালগুলো আগের রূপ ফিরে পাবে এবং নগরীর জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে।

তিনি বলেন, শহরের বিভিন্ন খাল খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা কমিয়ে আনা হচ্ছে। এর আগে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নাজির খাল পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং এবার সময়মত খাল খননের কাজ শুরু করা হয়েছে। মেয়র বলেন, খালটি কালিছড়া হয়ে বাংলাবাজার এলাকা থেকে বিস্তৃত হয়ে শেষ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিলিত হয়েছে। স্থানীয়দের কাছে খালটির সঙ্গে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। খাল পুনঃখননের মাধ্যমে সেই পুরোনো পরিবেশ ও স্মৃতি ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসন করা হবে। ডা. শাহাদাত বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেভাবে সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছিলেন, সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমানেও খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশব্যাপী খাল খনন কার্যক্রমে গুরুত্বারোপ করেছেন। গ্রামাঞ্চলে কৃষি কাজের জন্য খালগুলোকে আরও উপযোগী করে তোলা হচ্ছে।

মেয়র নগরবাসীকে নিজ নিজ এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান। এসময় বলেন, প্রতি শনিবার নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার করার জন্য সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার আশপাশে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, খাল ও নালায় প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় শুধু অর্থ ব্যয় করে খাল খনন করেও কাঙ্‌ক্িষত ফল পাওয়া যাবে না।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, বিএনপি নেতা আব্বাস রশীদ, মাঈনুদ্দীন চৌধুরী মাঈনু, রফিক উদ্দিন চৌধুরী, সেলিম উদ্দিন, আইয়ুব খান, মহসিন তালুকদার, নাজিম উদ্দীন, ফরিদুল আলম, কুতুব উদ্দিন, মো. আলাউদ্দিন, মো. শফি, কুতুব উদ্দিন বেনী, মোজাহেরুল আলম, হায়াতুর রশীদ, হাবিবুর রহমান হাবিব, মহানগর যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি শাহেদ আকবর।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে ঢাকার ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
পরবর্তী নিবন্ধশাহ আমানতে আরও ৮ ফ্লাইট বাতিল