চট্টগ্রাম বন্দরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে কন্টেনার পাচারকারী চক্র। পুরো কন্টেনার–ই গায়েব করে দেয়ার ঘটনা ঘটছে। যে কোন ধরনের চুরি এবং পাচার প্রতিরোধে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সজাগ থাকলেও মাত্র দুয়েকদিনের ব্যবধানে দুইটি কন্টেনার গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনা বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এরমধ্যে পাচার করার অন্তত ১৬ ঘণ্টা পর একটি গার্মেন্টসের কাপড় বোঝাই একটি কন্টেনার উদ্ধার করা হলেও অপর কন্টেনারটির কোনো হদিশ মিলেনি। বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে একটি মামলা দায়ের করেছে। তবে চীন থেকে আমদানিকৃত গার্মেন্টসের
কাপড়বোঝাই কন্টেনারটি কে বা কারা নিয়ে গেছে বা কিভাবে নিয়ে গেছে তা গতকাল পর্যন্ত উদ্ঘাটিত হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে জোর তদন্ত চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, ১ এপ্রিল ভোরে নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনালের (এনসিটি) ব্যাকআপ ইয়ার্ড থেকে ভুয়া অন–চেসিস অনুমতিপত্র, চালান ও গেটপাস ব্যবহার করে গার্মেন্টসের কাপড়বোঝাই একটি কন্টেনার ট্রেইলরে করে বের করে নেয়া হয়। পরবর্তীতে জানা যায় যে, আসল আমদানিকারক কন্টেনারটি খালাস করেননি, এটি পাচার হয়ে গেছে। ওইদিন বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগসহ সংশ্লিষ্টরা নানাভাবে তৎপরতা চালিয়ে রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ হালিশহরের বারনীঘাট এলাকাস্থ শাহজালাল ট্রাক টার্মিনালের পাশের একটি গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে ট্রেইলরসহ কন্টেনারটি উদ্ধার করে। অভিযানের সময় কন্টেনারটি পাচারের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে এই ঘটনায় বন্দর থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
কন্টেনার পাচারের এই ঘটনার সুরাহা হওয়ার আগেই আরেকটি কন্টেনার পাচারের ঘটনা ঘটেছে। দ্বিতীয় কন্টেনারটিও গার্মেন্টসের কাপড়বোঝাই। এটি আমদানি করা হয়েছিল চীন থেকে। গাজীপুরের মোয়াজউদ্দিন টেক্সটাইল লিমিটেড নামের একটি কোম্পানি চালানটি আমদানি করে। কন্টেনার নম্বর–টিসিএলইউ৮৫৫৭৩০৪এক্স৪০। কয়েক কোটি টাকার পণ্যবোঝাই কন্টেনারটি গতবছরের ৪ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছালে বার্থ অপারেটর বশির আহম্মদের মাধ্যমে জাহাজ থেকে খালাস করা হয়। কন্টেনারটি চট্টগ্রাম বন্দরের জে.আর ইয়ার্ডে রাখা হয়। কন্টেনারটি এপ্রেজ কাম ডেলিভারি নেয়ার উদ্দেশ্যে সিএন্ডএফ এজেন্ট এস জামান এন্ড ব্রাদার্স (প্রাঃ) লিমিটেড শুল্ককরাদি পরিশোধ করে গত ২ এপ্রিল জে.আর ইয়ার্ডের এপ্রেজ ক্লার্কের সাথে যোগাযোগ করে। সিএন্ডএফ এজেন্ট এস জামান এন্ড ব্রাদার্স (প্রাঃ) লিমিটেড সারাদিন খোঁজাখুঁজি করেও উক্ত কন্টেনারটির কোনো হদিশ না পেয়ে ইয়ার্ডের টিআই’কে বিষয়টি জানায়। একইসাথে সিএন্ডএফ এজেন্ট ২ এপ্রিল তারিখের একটি ডেলিভারি অ্যাসাইনমেন্ট বাতিলের আবেদন করে। পরবর্তীতে উক্ত সিএন্ডএফ এজেন্টের কর্মচারী এবং বার্থ অপারেটরের লোকজন মিলে কন্টেনারটি আরো খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু বন্দরের সংশ্লিষ্ট ইয়ার্ডের কোথাও কন্টেনারটির হদিশ মিলেনি। গত ৫ এপ্রিল সিএন্ডএফ এজেন্টের পক্ষ থেকে বন্দরের টার্মিনাল ম্যানেজারকে চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু কন্টেনারটির কোনো হদিশ মিলেনি। ধারণা করা হচ্ছে যে, গত বছরের ৪ আগস্ট থেকে গত ২ এপ্রিল তারিখের মধ্যে কন্টেনারটি চুরি হয়েছে। এই ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিবহন বিভাগের জে আর ইয়ার্ডের পরিবহন পরিদর্শক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বাদি হয়ে গতকাল বন্দর থানায় একটি মামলা রুজু করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ সূত্র জানিয়েছে, অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কন্টেনারটির কোনো হদিশ মিলেনি। তাই বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বন্দর থানার ডিউটি অফিসারের সাথে গতকাল যোগাযোগ করা হলে তারা একটি মামলা রেকর্ডের কথা স্বীকার করেছেন। তবে বিস্তারিত কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কন্টেনারটি চুরি হয়েছে। আমরা এটির ব্যাপারে খোঁজখবর করার চেষ্টা করছি। আসলে বেশ কয়েকমাস আগে কন্টেনারটি বন্দরের ইয়ার্ডে পৌঁছে। এতোদিন পর খালাস করতে এসে দেখা যায় যে, সেটি নেই। আমরা বিষয়টিকে খুবই সিরিয়াসলি নিয়ে খোঁজখবর করছি। বন্দর থেকে কন্টেনার পাচারকারী সক্রিয় হয়ে উঠার ব্যাপারটি ঠিক নয় বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিশ্বমানের। আমরা সিকিউরিটির দিক থেকে আইএসপিএস কোড পুরোপুরি অনুসরণ করা একটি বন্দর। এখান থেকে এভাবে কন্টেনার নিয়ে যাওয়া বেশ কঠিন একটি ব্যাপার।’ বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চলছে বলে তিনি দাবি করেন।












