আজকের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে বিসিবিকে

আইসিসি বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত । ‘মিরাকল’ কিছুর আশায় বিসিবি সভাপতি

স্পোর্টস ডেস্ক | বৃহস্পতিবার , ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৬:২১ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ভিডিও কনফারেন্সে ডাকা আইসিসি বোর্ড সভা গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাতে নেওয়া সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) জানিয়েছে, ২০২৬ টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতে অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বকাপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বাংলাদেশকে এক দিন সময় দিয়েছে আইসিসি। জরুরি ভার্চুয়াল সভায় ১৬ সদস্যের আইসিসি বোর্ডের মধ্যে ১৪ জন সদস্যই ভেন্যু স্থানান্তরের দাবির বিপক্ষে ভোট দেয়। ফলে বাংলাদেশের সামনে এখন দুটি পথ খোলা, হয় আইসিসির শর্ত মেনে ভারতে খেলতে যাওয়া, না হয় বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়া। নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশের দাবির পক্ষে একমাত্র পাকিস্তান বাদে আর কোনো দেশকেই পাশে পায়নি বিসিবি।

তবে আইসিসির সিদ্ধান্তের পরও বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম আছেন ‘মিরাকলের’ আশায়। আগামী ২৪ ঘণ্টায় যদি অলৌকিক কিছু ঘটে যায়, তাহলেই কেবল বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব এবারের টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা। আমিনুল জানিয়েছেন, ‘এটাই ঠিক।’ অর্থাৎ হাতে এক দিন সময় আছে। এই সময়ের মধ্যে সরকারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে বিসিবি। কিন্তু সময় দিলেই কী! বাংলাদেশ তো আগেই একাধিকবার জানিয়েছে, নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে না। নতুন করে এক দিন সময়ে কি সিদ্ধান্ত বদলাবে?

সরকারের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, সে রকম সম্ভাবনা নেই। ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসবে না। সরকারকে মত বদলাতে বিসিবি কোনো অনুরোধ করবে কি না, জানতে চাইলে আমিনুলও বলেন একই কথা। আসলে মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর থেকে আমার নিজেরই মনে হচ্ছে ভারতে খেলা আমাদের জন্য নিরাপদ নয়। সেটাই আজ আইসিসির মিটিংয়ে আবার বলেছি। আমরা আমাদের উদ্বেগের জায়গাগুলো জানিয়েছি।

আরেক প্রশ্নে যদিও আমিনুল বলেন, আরেকবার সরকারের সঙ্গে কথা বলে দেখবেন। তবে পরে যোগ করেছেন, সরকারকে আমরা কোনো চাপ দিতে চাই না। সরকার তো চায় আমরা খেলি। কিন্তু ভারতে খেলা এ মুহূর্তে আমাদের জন্য নিরাপদ নয়। আমরা শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই। এই অবস্থানে আমরা এখনো অটল আছি।

ভেন্যু বদলের প্রশ্নে আইসিসিতে ভোটাভুটিতে হেরে যাওয়ার পরও এ কথা বলার একটাই অর্থআইসিসির সভায় নিজেদের বাইরে মাত্র এক ভোট পাওয়া বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত এবারের টিটুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলছে না। আধা ঘণ্টার মতো হওয়া ভার্চুয়াল সভার ভোটাভুটিতে পাকিস্তান ছাড়া অন্য সব বোর্ড ভেন্যু বদলানোর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এমনকি শ্রীলঙ্কা নাকি তাদের গ্রুপেও নিতে চায়নি বাংলাদেশকে। বিস্ময়কর হলেও সত্যি, খড়কুটোর মতো তারপরও আশা আঁকড়ে ধরে থাকতে চাইছেন বিসিবি সভাপতি, ‘দেখি, যদি মিরাকল কিছু ঘটে।’ এ কথার পর আমিনুলের কাছে পাল্টা প্রশ্ন ছিলঅলৌকিক কিছুর আশা কোন দিক থেকে করছেন, সরকার নাকি আইসিসি? আমিনুলের উত্তর, ‘আইসিসি, তারাও তো মত বদলাতে পারে।’

এর আগে ক্রিকইনফোর খবরে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বিসিবিকে এক দিন সময় দিয়েছে আইসিসি। নয়তো বাংলাদেশের জায়গায় টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিকল্প দল নেওয়া হবে। ভারতে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা শঙ্কা থাকায় বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবি ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার যে অনুরোধ করেছিল, সেটি আমলে নেয়নি আইসিসি। না নেওয়ার কারণ হিসেবে তিনটি বিষয়ের উল্লেখ করেছে তারা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লেখা হয়, ‘বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে, এমন কোনো স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন না থাকায় আইসিসির পক্ষে ম্যাচ স্থানান্তর করা সম্ভব নয়। এতে অন্য দল ও বিশ্বব্যাপী সমর্থকদের জন্য বড় ধরনের লজিস্টিক ও সূচিগত জটিলতা তৈরি হবে এবং একই সঙ্গে এমন নজির তৈরি হবে, যা আইসিসির শাসনব্যবস্থার নিরপেক্ষতা, ন্যায্যতা ও সততাকে ক্ষুণ্ন করার ঝুঁকি তৈরি করবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিরাপত্তার বিষয়ে লেখা হয়েছে, স্বাধীন পর্যালোচনাসহ সব ধরনের নিরাপত্তা মূল্যায়নে দেখা গেছে, ভারতে টুর্নামেন্টের কোনো ভেন্যুতেই বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, গণমাধ্যমকর্মী, কর্মকর্তা ও সমর্থকদের জন্য কোনো হুমকি নেই। দশম টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। আইসিসি বলছে, টুর্নামেন্টের এত কাছাকাছি সময়ে এসে সূচিতে পরিবর্তন আনা বাস্তবসম্মত নয়।

এ ছাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা লিখেছে আইসিসি, কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি না থাকা সত্ত্বেও সূচি পরিবর্তন করলে ভবিষ্যতের আইসিসি ইভেন্টগুলোর সংবেদনশীলতা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আইসিসির নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে এমন একটি নজিরও তৈরি হতে পারে।

আইসিসি মুস্তাফিজের ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন ও অপ্রাসঙ্গিক অভিহিত করে লিখেছে, প্রচেষ্টাগুলোর পরও বিসিবি তাদের অবস্থান বজায় রেখেছে এবং বারবার টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের বিষয়টিকে তাদের এক খেলোয়াড়ের একটি ঘরোয়া লিগে অংশগ্রহণসংক্রান্ত একটি একক, বিচ্ছিন্ন ও অপ্রাসঙ্গিক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করেছে। এই বিষয়ের সঙ্গে টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা কাঠামো বা আইসিসি টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের শর্তাবলির কোনো সম্পর্ক নেই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামের তিনসহ সারা দেশে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ ৫৫ নেতাকে বহিষ্কার
পরবর্তী নিবন্ধজায়গা জমি নিয়ে মারামারি, প্রাণ গেল শিশুর