যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত অশোভন এক মন্তব্য করে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে (এমবিএস) উপহাস করেছেন। ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে বর্তমান সম্পর্কের ধারা বর্ণনা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, এমবিএস এখন কার্যত ‘আমার পা* চাটছে’। তিনি সৌদি যুবরাজকে ‘খুবই সাধারণ মানের লোক’ বলে বর্ণনা করেন বলে খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের। সমপ্রতি ফ্লোরিডায় সৌদি সমর্থিত ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সংক্রান্ত এক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পুনরুত্থান’ নিয়ে সৌদি নেতার সঙ্গে কথোপকথনের কথা তুলে ধরে ট্রাম্প জানান, এমবিএস যুক্তরাষ্ট্রের ‘এমন শক্তিশালী’ প্রত্যাবর্তন হবে বলে ধারণা করেননি। খবর বিডিনিউজের।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে গড়ানোর সময়টিতে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী এক মিত্র দেশের নেতাকে নিয়ে এমন অপমানজনক মন্তব্য করলেন ট্রাম্প। পরে অবশ্য তিনি এমবিএসের প্রশংসা করেছেন। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি (এমবিএস) ভাবেননি এমনটি হবে। তিনি ভাবেননি, তাকে আমার পা* চাটতে হবে। তিনি মনে করেছিলেন, আমি শুধু পতন হতে থাকা একটি দেশের আরেকজন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হবো। কিন্তু এখন আমার সঙ্গে তার ভালো ব্যবহার করতে হবে। এরপর কিছুটা বন্ধুত্বপূর্ণ সুরে তিনি এমবিএসকে ‘বুদ্ধিমান’ ও ‘অমায়িক’ মানুষ বলে বর্ণনা করেন। তার নেতৃত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ধারণার ‘উল্লেখযোগ্য উন্নতি’ হয়েছে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, কিন্তু আপনারা জানেন, তিনি (যুবরাজ এমবিএস) একজন বুদ্ধিমান, অত্যন্ত অমায়িক একজন মানুষ। এক বছর আগে তিনি বলেছিলেন, তোমরা একটি মৃত দেশ ছিলে আর এখন তোমরা আক্ষরিক অর্থেই এই বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দেশে পরিণত হয়েছো। তিনি যোগ করেন, আর এগুলো আমরা ইরানকে আচ্ছামতো পিটানোর আগের ঘটনা।
সৌদি আরব প্রকাশ্য বিবৃতিতে যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানালেও কিছু প্রতিবেদন থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে, সৌদি নেতৃবৃন্দ ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পক্ষে আছেন। ট্রাম্প এমবিএসকে নিয়ে উপহাস করলেও পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রতা দৃঢ় আছে বলেই ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
সমপ্রতি নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, মোহাম্মদ বিন সালমান ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে যুদ্ধ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে এটিকে ইরানকে দুর্বল করার ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ বলে বর্ণনা করেছেন আর জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলাসহ আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। তবে সৌদি আরব প্রকাশ্যে দীর্ঘ সংঘাতকে সমর্থন করার কথা অস্বীকার করেছে। তারা সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে আর ইরানের হুমকি বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষায় নিয়োজিত আছে বলে দাবি করেছে।











