রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এখন হলুদের সমারোহ। সড়ক দিয়ে যাওয়ার পথে দুপাশে তাকালেই চোখে পড়ছে দিগন্তবিস্তৃত সূর্যমুখী ফুলের বাগান। প্রথাগত চাষাবাদ ছেড়ে বিকল্প এবং লাভজনক এই তেল ফসলের চাষে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা। দৃষ্টিনন্দন এই ফুল দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত পর্যটক ও প্রকৃতিপ্রেমী।
উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের হাজীপাড়া সড়ক সংলগ্ন মাঠে কৃষক পারভেজের গড়ে তোলা সূর্যমুখী বাগানটি এখন অন্যতম আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। দর্শনার্থী রিমজিম আক্তার বলেন, এত সুন্দর সূর্যমুখীর চাষ হয় তা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।
চারদিকের এই হলুদ আভা মানসিকভাবে প্রশান্তি দিচ্ছে।
শুধু পর্যটন নয়, কৃষক পারভেজের কাছে এটি আশার আলো। তিনি জানান, ধান বা অন্য ফসলের তুলনায় সূর্যমুখীতে পানি ও সার কম লাগে, পোকার উপদ্রবও কম। বাজারে এই তেলের ব্যাপক চাহিদা থাকায় আগামীতে আরও বড় পরিসরে চাষের পরিকল্পনা করছেন তিনি। তবে তেল ভাঙানোর কোনো ব্যবস্থা না থাকায় কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়, ছুটতে হয় রাউজানে। এই ধরনের উদ্যোগ রাঙ্গুনিয়ায় নেওয়া হলে উৎপাদন আরও বাড়বে বলে জানান কৃষক পারভেজ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী আবাদের জন্য ১০ জন কৃষককে সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিজন কৃষককে ৩৩ শতক জমির বিপরীতে এক কেজি বীজ এবং ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া অনেক কৃষক নিজ উদ্যোগেও চাষাবাদ শুরু করেছেন। বিশেষ করে পোমরা, বেতাগী, দক্ষিণ রাজানগর, রাজানগর ও ইসলামপুর ইউনিয়নে এবার সূর্যমুখীর ফলন সবচেয়ে বেশি হয়েছে।
কৃষকদের দেওয়া তথ্যমতে, সূর্যমুখী চাষ অত্যন্ত লাভজনক। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় মাত্র ৪ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা। বিপরীতে ফলন হয় ৭ থেকে ১০ মণ বীজ। প্রতি কেজি বীজ থেকে প্রায় আধা লিটার তেল পাওয়া যায়। প্রতি লিটার খাঁটি সূর্যমুখী তেলের বাজারমূল্য সর্বনিম্ন ৩৫০ টাকা। তেল ছাড়াও এর খৈল পশুখাদ্য হিসেবে এবং গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া সূর্যমুখীর বীজ পাখির খাদ্য হিসেবেও বিদেশে রপ্তানিযোগ্য। সূর্যমুখী বীজ আধা ভাজা করে পুষ্টিকর খাবার হিসেবেও খাওয়া হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস জানান, বীজ রোপণ থেকে সংগ্রহ পর্যন্ত মাত্র ১১০ থেকে ১২০ দিন সময় লাগে। তিনি বলেন, অনেক কৃষক তাদের পতিত জমিকে আবাদ উপযোগী করে সূর্যমুখী চাষ করছেন। তেল ফসলের আবাদ বৃদ্ধিতে আমরা কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। রাঙ্গুনিয়ার এই সূর্যমুখী বিপ্লব কেবল তেলের চাহিদা মেটাচ্ছে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে।










