অর্থনৈতিক মন্দা ও অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধির মত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কার্যকর নীতি প্রণয়নে অবদানের জন্য অর্থনীতির নোবেল পাচ্ছেন দুই মার্কিন অর্থনীতিবিদ। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস গতকাল সোমবার এ পুরস্কারের জন্য রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ডের নাম ঘোষণা করে। হল যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং উডফোর্ড নিউ ইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।
পুরস্কারটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে সুইয়েরিস রিঙব্যাংক পুরস্কার’। এর অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ ডলারের সমান। নোবেল কমিটি বলছে, অর্থনীতির সামষ্টিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার নীতিকে আরও কার্যকর করতে ব্যষ্টিক অর্থনীতির ভিত্তিতে নতুন মডেল তৈরির জন্য হল ও উডফোর্ডকে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। তাদের তৈরি মডেলের সাহায্যে যথাসময়ে রাজস্ব ও মুদ্রানীতির পদক্ষেপ নিয়ে অর্থনীতির বড় ধরনের ওঠানামার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। খবর বিডিনিউজের। পুরস্কার কমিটির চেয়ারম্যান জন হাসলার বলেন, পুরস্কারজয়ীদের কাজ এমন একটি স্থিতিশীল তাত্ত্বিক ভিত্তি দিয়েছে, যার ওপর দাঁড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার অর্থনৈতিক মডেল ব্যবহার করছে। এর ফলে জ্বালানি সংকট কিংবা পরিবারের ভোগব্যয়ের আকস্মিক পরিবর্তনের মত অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দিতে আমরা আরও ভালোভাবে প্রস্তুত।
অর্থনীতিতে কখনো মন্দা দেখা দেয়, কখনো আবার দ্রুত প্রবৃদ্ধি ঘটে। এ দুই পরিস্থিতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকদের জন্য দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ। আগের অনেক সামষ্টিক অর্থনৈতিক মডেল মূল্যস্ফীতি, উৎপাদন ও ভোগের মত বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচকের মধ্যকার পরিসংখ্যানভিত্তিক সম্পর্কের ওপর নির্ভর করত। হল ও উডফোর্ডের কাজের গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, তারা এসব মডেলের ভিত্তি হিসেবে ব্যক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত এবং আচরণকে গুরুত্ব দিয়েছেন। অর্থনীতির ভাষায়, এ পদ্ধতিকে বলা হয় ‘ব্যষ্টিক অর্থনীতির ভিত্তি’। অসংখ্য পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিজেদের স্বার্থে যেসব সিদ্ধান্ত নেয়, সেগুলোর সম্মিলিত প্রভাব কীভাবে পুরো অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে, তা এই মডেলে গুরুত্ব পায়। এ মডেলের পেছনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হল, পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়। পরিবার সঞ্চয় করবে, নাকি ব্যয় বাড়াবে; ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পণ্যের দাম কীভাবে নির্ধারণ করবে–এসব সিদ্ধান্ত নির্ভর করে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে তাদের প্রত্যাশা ও সংশয়ের ওপর।
সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নীতি সম্পর্কে নিজেদের পরিকল্পনা জানায়, তখন তা পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশাকে প্রভাবিত করতে পারে। এর মাধ্যমে তাদের ব্যয়, সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনা এবং অর্থনীতিকে কাঙ্ক্ষিত দিকে পরিচালিত করা সম্ভব। নোবেল কমিটির ভাষ্য, নতুন এ মডেলগুলো অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
চিকিৎসা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য ও শান্তিতে এ বছরের নোবেল পুরস্কার গত সপ্তাহেই ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থনীতির পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ বছরের নোবেল ঘোষণার পর্ব শেষ হল।












