অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন খাতে আবার অস্থিরতার শঙ্কা

বেতন-ভাতা ও মজুরি নিয়ে শ্রমিক ও জাহাজ মালিকদের ভিন্ন অবস্থান

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ at ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ

বেতনভাতা ও মজুরি নিয়ে অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন খাত আবারো অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা না হলে ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে নৌযান শ্রমিকেরা কর্মবিরতি কর্মসূচি ঘোষণার হুমকি দিয়েছে।

শ্রমিকদের দাবি, মজুরি বাড়ানোর কথা দিয়েও মালিকপক্ষ কথা রাখেননি। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। বিদ্যমান মজুরি কাঠামোতে শ্রমিকদের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে উঠছে। অপরদিকে মালিকপক্ষ বেতনভাতা কিংবা মজুরি বাড়ানো সম্ভব নয় জানিয়ে প্রয়োজনে লেঅফ ঘোষণা করার হুমকি দিয়েছেন। তারা বলছেন, আমদানি কমে যাওয়ায় জাহাজের কোনো ভাড়া নেই। শত শত জাহাজ নদীতে অলস ভাসছে। এই অবস্থায় বেতনমজুরি বাড়ানোর অর্থ হচ্ছে পুরো সেক্টরটিকে ধ্বংস করে ফেলা।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম ভূইয়া গতকাল ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, এক মাসের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণ করে গেজেট জারি করার কথা থাকলেও তা হয়নি। ইতোমধ্যে দুই মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। গত বছরের ২৮ নভেম্বর সরকারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করি। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণা না হলে ওইদিন রাত ১২টা ১ মিনিট (২৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে সারা দেশে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে। আমরা শিগগির এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেব।

নৌযান শ্রমিকরা জানান, ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা ও কর্মক্ষেত্রে মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে গত বছরের ২৭ নভেম্বর থেকে সারা দেশে কর্মবিরতি শুরু করা হয়। পরদিন ২৮ নভেম্বর সংকট নিরসনে মালিক, শ্রমিক ও সরকারের সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বৈঠকে এক হাজার টনের বেশি জাহাজের শ্রমিকদের নভেম্বর থেকে ১২০০ টাকা ভাতা এবং এর চেয়ে বেশি ধারণক্ষমতার জাহাজে শ্রমিকদের ১৫০০ টাকা মাসিক ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়া বেতন কাঠামো গঠনের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি এক মাসের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে শ্রমিকেরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন। কিন্তু ওই গেজেট প্রকাশ না করায় শ্রমিকেরা নতুন করে আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

শ্রমিকদের হুমকির প্রেক্ষিতে গতকাল একাধিক জাহাজ মালিক বলেছেন, আমদানি কমে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন রুটে পণ্য পরিবহন একেবারে কমে গেছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে শ্রমিককর্মচারীদের বেতনভাতার যোগান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই নাজুক সময়ে বেতনভাতা বাড়ানোর দাবি নতুন করে সংকট তৈরি করবে। বেতনভাতা বাড়ানো সম্ভব হবে না। প্রয়োজনে লেঅফ করে আমরা জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেব।

পূর্ববর্তী নিবন্ধতিন হ্যাকারসহ গ্রেপ্তার ৫
পরবর্তী নিবন্ধকক্সবাজারে মা-মেয়ে খুনের নেপথ্যে কী