পৃথিবীর ক্যানভাসে আজ
বিষণ্নতার রং দিয়ে সময় এঁকে যায়
মানুষের বিবর্ণ জীবনের দিনলিপি।
প্রভাত–সন্ধ্যা আসে আর যায়
অর্গল ভাঙার গান গায় না আর কেউ।
সূর্যের আলো হয়ে জন্মায় না
আর কোনো আদিম পুরুষ।
আলো ছড়ানোর কিংবা ন্যায় অন্যায়ের
দাঁড়িপাল্লা মাপার দায় নেই কারোর।
গলাগলির পরিবর্তে গালাগালির কিংবা
অসাম্যের কদর্য রূপ ফুটে আছে
বিষাক্ত সমাজের উঠোন জুড়ে।
শ্যাওলা জমা পিচ্ছিল পথে বোহেমিয়ান জীবনে
প্রতি মুহূর্তে অনিশ্চিয়তার আহ্বান।
যুদ্ধের অনলে কিংবা মারীর তাণ্ডবে
লণ্ডভণ্ড, ক্ষতবিক্ষত পৃথিবীর শরীর।
দুবেলা দুমুঠো অন্নই আজ
অনাহারী মানুষের কাছে ধর্মের রূপ।
হাহাকার আর মানুষের আর্তনাদে
ভারী হয়ে আছে চারপাশ।
রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অনাহারী শিশুর
বুকভাঙা ফুৎকার ভাত দে, ভাত দে।
রাজনীতির বাদশাহদের আঙ্গুলের ইশারায়
যুদ্ধবিমান থেকে ঝরে পড়া মিসাইলে
ঝলসে যায় কত শরীর, কত পুড়ে ছাই হয়
রক্তের স্রোতে ভেসে যাওয়া সভ্যতা দেখে
তুমুল দীর্ঘশ্বাসে পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়।