অতুলচন্দ্র দত্ত (১৮৭৫–১৯৬৫)। তিনি ছিলেন নীতিবাদী সাহিত্যিক ও একজন খ্যাতিমান আইনজীবী, যিনি তাঁর জীবন ও কর্মে সততা, ন্যায়বোধ ও মানবিক মূল্যবোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান মূলত নৈতিক শিক্ষা ও সমাজচেতনার বিকাশে নিবেদিত। তিনি বিশ্বাস করতেন, সাহিত্য কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; বরং এটি মানুষের চরিত্র গঠন ও সমাজ সংস্কারের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। তিনি ১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ১২ই এপ্রিল চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার খরণদ্বীপ গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিকভাবেই তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি। বোয়ালখালীর স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে তিনি পার্শ্বস্থ পটিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ পটিয়া হাইস্কুলে ভর্তি হন (পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়)। এ স্কুল থেকেই তিনি কৃতিত্বের সাথে এন্ট্রান্স পাশ করেন। এরপর চট্টগ্রাম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে, তিনি আইন বিষয়ে পড়াশোনা করে নিজেকে আইন পেশায় জড়িয়ে নেন। চট্টগ্রাম জেলা জর্জ কোর্টে দীর্ঘ ৬০ বছর ওকালতি করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি লেখালেখি শুরু করেন। বিভিন্ন সংবাদ ও পত্রিকায় তার অসংখ্য প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলি হলো: গৃহসুখ, গৃহশিক্ষা, চাইল্ড ন্যাচার (ঈযরষফ ঘধঃঁৎব)। আইনজীবী হিসেবে অতুলচন্দ্র দত্ত ছিলেন অত্যন্ত সৎ ও ন্যায়পরায়ণ। তিনি আইনকে শুধুমাত্র পেশা হিসেবে দেখেননি, বরং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়ে তিনি ন্যায় প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট ছিলেন। তাঁর সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতা তাঁকে সমাজে বিশেষ সম্মান এনে দেয়। তাঁর সাহিত্যিক জীবন ও পেশাগত অভিজ্ঞতা একে অপরকে সমৃদ্ধ করেছে। আইনের বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁর লেখায় জীবন্ততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা এনে দিয়েছে, আর তাঁর নৈতিক চিন্তাধারা তাঁকে একজন মানবিক আইনজীবী হিসেবে গড়ে তুলেছে। এই সমন্বয়ই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। ১৯৬৫ সালের ২ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন।













