অগ্নি ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে নেই অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র

ফায়ার লাইসেন্স নিতেও অনাগ্রহ ব্যবসায়ীদের

জাহেদুল কবির | রবিবার , ২০ এপ্রিল, ২০২৫ at ৬:২১ পূর্বাহ্ণ

নগরীতে ফায়ার সার্ভিস চিহ্নিত অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটের বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ফায়ার লাইসেন্স নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এছাড়া হাতেগোনা কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে রয়েছে ফায়ার এক্সটিংগুইসার (অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র)। ফলে বেশিরভাগ সময় ছোটখাটো আগুন রূপ নিচ্ছে বড় আগুনে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, গত ২০১৯ সালে ২৯ মার্কেটকে চিহ্নিত করে দৃশ্যমান স্থানে ‘অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট’ লিখা ব্যানারও সাঁটিয়ে দেয়া হয়েছিল। এছাড়া মার্কেটের প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে ফায়ার লাইসেন্স ইস্যুনবায়নের জন্য তাগাদা দেয়া হলেও এ ব্যাপারে তারা বরাবরই উদাসীন। এমনকি প্রত্যেক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে ৫ কেজির ফায়ার এক্সটিংগুইসার রাখলেও বড়সড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

ফায়ার সার্ভিসের তালিকাভূক্ত অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ ২৯ মার্কেটের মধ্যে রয়েছেকালুরঘাট ফায়ার স্টেশন এলাকার হক মার্কেট, স্বজন সুপার মার্কেট, বখতেয়ার মার্কেট, নজু মিয়া মার্কেট ও বলির হাট মার্কেট। এছাড়া লামা বাজার ফায়ার স্টেশন এলাকার ভেড়া মার্কেট, চাউলপট্টি, শুটকি পট্টি, খাতুনগঞ্জ, আসাদগঞ্জ, মিয়া খান নগর পুরাতন জুট মার্কেট এবং ওমর আলী মার্কেট। বন্দর ফায়ার স্টেশন এলাকার পোর্ট মার্কেট, বড়পুল বাজার, ইশান মিস্ত্রি মার্কেট, ফকির হাট মার্কেট, নয়া বাজার মার্কেট ও ফইল্ল্যাতলী বাজার। ইপিজেড ফায়ার স্টেশন এলাকার চৌধুরী মার্কেট ও কলসি দীঘির পাড় এলাকাধীন মার্কেট। চন্দনপুরা ফায়ার স্টেশন এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটের তালিকায় রয়েছে চক ভিউ সুপার মার্কেট, কেয়ারি শপিং মল ও গোলজার মার্কেট। এছাড়া নন্দনকানন ফায়ার স্টেশন এলাকার মধ্যে রিয়াজুদ্দীন বাজার, জহুর হকার্স মার্কেট, টেরি বাজার ও তামাকুমন্ডি লেইন। অপরদিকে আগ্রাবাদ ফায়ার স্টেশন এলাকায় রয়েছে সিঙ্গাপুর সমবায় মার্কেট এবং কর্ণফুলী মার্কেট। তবে বায়েজিদ ফায়ার স্টেশন এলাকাতে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় কোনো মার্কেট নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অগ্নিনিরাপত্তায় দেশের নাগরিকরা খুব বেশি সচেতন নন। ফলে অগ্নিদুর্ঘটনায় আমাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও খুব বেশি হয়। প্রায় আবাসিক ভবন ও বাণিজ্যিক ভবন আইন মেনে নির্মিত হচ্ছে না। গলিগুলো অত্যন্ত সরু। এসব সরু গলিতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশও অসম্ভব। এছাড়া পুকুর কিংবা জলাধার ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষে দেখে থাকা ছাড়া আর কিছুই যেন করার থাকবে না। তাই অগ্নিনিরাপত্তা আইন মেনে প্রত্যেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ফায়ার এঙটিংগুইশার রাখতে হবে। পাশাপাশি আগুন নেভাতে শপিং সেন্টারগুলোতে স্বয়ংসম্পূর্ণ অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা থাকা, জরুরি প্রস্থানের সিঁড়ির সংখ্যা ও ছয়তলার ওপরে প্রতি তলায় সেফটি লবির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে বৈদ্যুতিক তারে কনসিল ওয়্যারিং থাকা, বৈদ্যুতিক মেইন সুইচ বঙ ও ডিমান্ড বঙ নিরাপদ অবস্থানে থাকা এবং স্মোক ও হিট ডিটেক্টর রাখা এবং মার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মীদের নিয়মিত অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রশিক্ষণ নিতে হবে।

জানতে চাইলে নগরীর জহুর হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব মো. ফজলুল আমিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, ফায়ার সার্ভিসের তাগাদার প্রেক্ষিতে আমরা বিভিন্ন সময় ব্যবসায়ীদের ফায়ার লাইসেন্স ইস্যু কিংবা নবায়নের জন্য উদ্বুব্ধ করেছি। ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে অনেক ব্যবসায়ী লাইসেন্স নিয়েছেন এবং অগ্নিনির্বাপন সরঞ্জাম ফায়ার এঙটিংগুইসারও কিনেছেন।

তামাকুমণ্ডি লেইন বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক দৈনিক আজাদীকে বলেন, আমাদের সমিতির অধীন অনেক মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছে ফায়ার লাইসেন্স কিংবা এঙটিংগুইসার নেই এটি ঠিক। তবে এরচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছেতামাকুমণ্ডি লেইনের গলিগুলো অনেক বেশি সরু। গত মঙ্গলবার রাতে অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করতে পারেনি। এটি আমাদের জন্য আরো বেশি উদ্বেগের।

টেরি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবদুল মান্নান বলেন, আমার জানা মতেআমাদের ব্যবসায়ীদের কাছে ফায়ার লাইসেন্স আছে। তবে হয়তো সবার কাছে অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র নেই। যাদের কাছে নেই তাদের কেনার জন্য তাগাদা দিবো।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. আবদুর রাজ্জাক দৈনিক আজাদীকে বলেন, অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবসায়ীদের আমরা দীর্ঘদিন ধরে তাগাদা দিয়ে আসছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে, আমাদের ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শকরা ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটগুলোতে পরিদর্শন করে ব্যবসায়ীদের ফায়ার লাইসেন্স ও অগ্নি নির্বাপন সরঞ্জাম কিনতে নিয়মিত উদ্বুব্ধ করছেন। তবে আমরা তো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা না। আমরা সচেতন করতে পারি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধস্বামী-স্ত্রী মিলে তারা যেভাবে প্রতারণা করেন
পরবর্তী নিবন্ধঅন্তঃসত্ত্বার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামী ও শাশুড়ি গ্রেপ্তার