টেকনাফে ৭ কোটি টাকার আইস ও ইয়াবা উদ্ধার, আটক ১

টেকনাফ প্রতিনিধি | শনিবার , ২ জুলাই, ২০২২ at ১:২৩ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের টেকনাফে ১ কেজি ৬০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ(আইস), ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ১টি কাঠের নৌকাসহ মো. ফারুক(৩০) নামে একজনকে আটক করেছে বিজিবি সদস্যরা।

শুক্রবার(১ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার সময় টেকনাফ উনচিপ্রাং আন নূরের ঘের এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ধৃত আসামি টেকনাফ নয়াপাড়া উনচিপ্রাং গ্রামের নুর আহমেদের ছেলে। উদ্ধার হওয়া মাদকের বাজার মূল্য ৬ কোটি ৮০ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বলে নিশ্চিত করেছেন বিজিবি টেকনাফ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার।

তিনি জানান, শুক্রবার টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) গোপন সংবাদ পায় যে টেকনাফ উনচিপ্রাং আন নূরের ঘের এলাকা দিয়ে মাদকের একটি বড় চালান বাংলাদেশে পাচার হতে পারে।

উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর আওতাধীন উনচিপ্রাং বিওপি’র একটি চোরাচালান প্রতিরোধ টহল দল সংশ্লিষ্ট বেড়ি বাঁধ ও কেওড়া বাগানে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে।

আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার সময় একজনকে একটি কাঠের নৌকাযোগে মিয়ানমার হতে শূন্য লাইন অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আসতে দেখে বিজিবি টহলদল চ্যালেঞ্জ করে।

এসময় উক্ত ব্যক্তি নৌকা হতে লাফিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে টহল দল তার পিছু ধাওয়া করে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

পরে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে নৌকার পাটাতনের নিচ হতে অভিনব পদ্ধতিতে লুকায়িত অবস্থায় ৯০ লক্ষ টাকা মূল্যের ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট আটক করা হয়।

এছাড়াও অবৈধভাবে মাদকদ্রব্য বহনের দায়ে ২০ হাজার টাকা মূল্যের কাঠের নৌকাটিও আটক করা হয়।

পরবর্তীতে ধৃত আসামী মো. ফারুকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ১০টার সময় ব্যাটালিয়ন সদর হতে ভারপ্রাপ্ত অপারেশন অফিসারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল হ্নীলা অবরাং এলাকায় তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে।

উক্ত অভিযানে বেড়ি বাঁধের পাশে মাটির নিচে বিশেষভাবে লুকায়িত অবস্থায় একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত ব্যাগের ভিতর হতে ৫ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা মূল্যের ১ কেজি ৬০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ(আইস) এবং ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত কাঠের নৌকা হ্নীলা শুল্ক কার্যালয়ে জমা করে আটক আসামীর বিরুদ্ধে জব্দকৃত ক্রিস্টাল মেথ(আইস) এবং ইয়াবা ট্যাবলেটসহ অবৈধভাবে মাদক বহন ও পাচারের দায়ে নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান ওই বিজিবি কর্মকর্তা।