অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় আরও ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এ নিয়ে ১০ স্বাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেছে আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মুন্সী আবদুল মজিদের আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ হয়।
স্বাক্ষীরা হলেন মো. ওয়াহিদুল ইসলাম, আনোয়ারুর ইসলাম, কামরুল হাসান, মো. মোর্শেদ আলম, হাসিনা আকতার, শিবনী শর্মা ও আরিফুল ইসলাম।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মাহমুদুল হক বলেন, “অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে আরও ৭ স্বাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেছে আদালত। সাতজন স্বাক্ষীর মধ্যে ৬ জন রাজস্ব কর্মকর্তা ও একজন ব্যাংকার। এই ৭ জনসহ ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে মোট ১০ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেছে আদালত। এ সময় প্রদীপ কুমার দাশ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আগামী ১৩ এপ্রিল পরবর্তী দিন স্বাক্ষীর জন্য রেখেছে আদালত।”
ওসি প্রদীপের আইনজীবী রতন চক্রবর্তী বলেন, “ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে আরও ৭ জন স্বাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামিপক্ষ থেকে ৭ জনকেই জেরা করা হয়েছে।”
আরও পড়ুন: অবৈধ সম্পদ অর্জন মামলায় ওসি প্রদীপ-স্ত্রীর বিচার শুরু
এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকি কারণের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় চার্জ গঠন হয়।
গত ২৬ জুলাই দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
গত ১ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্রের ওপর শুনানি হয়। গত ২৯ জুন দুপুরে চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ ও মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত প্রদীপ কুমার দাশের অবৈধ সম্পদ দেখভালের দায়িত্ব কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে দেন।
গত ২০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিনের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলাটির এজাহারে উল্লেখিত সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন।
২০২০ সালের ২৩ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে প্রদীপের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় প্রদীপের সঙ্গে তার স্ত্রী চুমকিকেও আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।












