মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে বিজয় উৎসব অনুষ্ঠিত

মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান, ম্যানচেস্টার (যুক্তরাজ্য) থেকে | বুধবার , ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ at ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে জাঁকজমকভাবে উদযাপন করা হয়েছে ‘চেতনা’র বিজয় উৎসব ২০২২’।

‘বাংলার অববাহিকায় সঙ্গীতে আর কবিতায়’ এ শ্লোগান নিয়ে গত ৪ ডিসেম্বর রবিবার আয়োজিত অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন ম্যানচেস্টারে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার কাজী জিয়াউল হাসান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ম্যানচেস্টার সিটি কাউন্সিলের লর্ড মেয়র কাউন্সিলর ডোনা লাডফোর্ড ও সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি লিডার কাউন্সিলর লুৎফুর রহমান।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক ফারুক যোশী ও সাংবাদিক আমিনুল হক ওয়েছের পরিচালনায় এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সভাপতি সৈয়দ মাহমুদুর রহমান।

করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত চেতনা’র সংগঠক আলমগীর চৌধুরী’র স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আলোচনা করেন মীর গোলাম মোস্তফা।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।

বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শাপলা ফুল এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শিশু-কিশোরদের মাঝে অনুষ্ঠিত হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।

বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শাপলা ফুল এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় শিশু-কিশোররা

সাবিনা ইয়াসমিন ও নিশাত চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে অর্ধশতাধিক ছাত্র-ছাত্রী এতে অংশ নেয়।

ব্রিটেনের ভিন্ন পরিবেশে বেড়ে ওঠা সন্তানদের জন্য আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা তিনটি গ্রুপে বিভক্ত ছিল। তিনটি বিষয়ের ওপর (জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শাপলা ফুল ও মুক্তিযুদ্ধ) ছাত্র-ছাত্রীরা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

অনুষ্ঠানে নয়জন বিজয়ীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়াও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সবাইকে শিক্ষা সামগ্রীসহ বিশেষ গিফটব্যগ প্রদান করা হয়।

বিজয়ের এ উৎসবে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখায় মুক্তিযোদ্ধা ডা. নজরুল ইসলামকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এতে মুক্তিযোদ্ধা ডা. নজরুল ইসলাম আবেগঘন সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

সংস্কৃতিকর্মী, কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিকসহ কমিউনিটির শত শত মানুষ এতে উপস্থিত ছিলেন। চেতনার বিজয় উৎসব দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে কবিতা আর গানের মধ্য দিয়েই শেষ হয় সন্ধ্যা পাঁচটায়।

উল্লেখ্য, এ উৎসবে এলসিবি, কৃষ্ণচূড়া, সুর তাল সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, আয়না আট ছাড়াও ওল্ডহ্যাম, হাইড, লীডস সহ বিভিন্ন শহরের আবৃত্তি শিল্পীরা কবিতা আবৃত্তি করেন এবং ও সঙ্গীত শিল্পীবৃন্দ গান পরিবেশন করেন।