কাপ্তাই বিএসপিআইয়ের ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় মামলা

কাপ্তাই প্রতিনিধি | মঙ্গলবার , ২৫ জুলাই, ২০২৩ at ১:১৬ অপরাহ্ণ

রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট (বিএসপিআই)-এর ছাত্র শেখ সাদিকুর রহমানের মৃত্যুর পর এ ব্যাপারে কাপ্তাই থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সাদিকুর রহমানের ভাই মাহবুবুর রহমান গতকাল সোমবার (২৪ জুলাই) কাপ্তাই থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওসি (তদন্ত) নুরে আলম মামলার তদন্ত করছেন।

মামলার এজাহারে মাহবুবুর রহমান তার ছোট ভাইয়ের কতিপয় সহপাঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। বিভিন্ন সময় সহপাঠীরা সাদিকুরকে বিরক্ত ও উত্যক্ত করত।বিষয়টি সাদিকুর তার মা এবং পরিবারের সবাইকে আগেই অবহিত করেছিলেন বলেও মাহবুবুবর রহমান জানান।

বিএসপিআই-এর অধ্যক্ষ আবদুল মতিন হাওলাদার জানান, গত ১৬ জুলাই বিএসপিআই-এর ৫ম পর্ব, ২য় শিফট, কম্পিউটার ডিপার্টমেন্টের ছাত্র শেখ সাদিকুর রহমান দোতলার হোস্টেল থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে ছাত্ররা তাকে প্রথমে কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করায়। চমেকে চার দিন চিকিৎসার পর গত ১৯ জুলাই সাদিকুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন।

সাদিকুরের চিকিৎসা এবং তাকে দেখভালের জন্য বিএসপিআই-এর কয়েকজন শিক্ষক নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নিজেও তাকে দেখতে চমেক হাসপাতালে যান।

আজ মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) বিএসপিআই-এর অধ্যক্ষ আবদুল মতিন হাওলাদার বলেন, “মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি বিভিন্ন মহলে বেশ গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হচ্ছে। সবাই শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছেন। বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ আজ বিএসপিআই পরিদর্শন করেন এবং দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন।”

বিএসপিআই-এর বর্তমানে ফাইনাল পরীক্ষা চলছে এবং সকল ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে বলে জানান অধ্যক্ষ।

শেখ সাদিকুর রহমান বিএসপিআই-এর জাহাঙ্গীর হোস্টেলের ২য় তলার ৫৬ নন্বর কক্ষে থাকতেন।

জাহাঙ্গীর হোস্টেলের হল সুপার মো. ইকবাল জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে সাদিকুরকে ভালোভাবে চিনতেন। প্রযুক্তিগতভাবে সাদিকুর বেশ দক্ষ ও অভিজ্ঞ ছিল। আইসিটি সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সে একাধিক পুরস্কারও পেয়েছে।

তিনি বলেন, “জাহাঙ্গীর হলে ৩২টি জানালা রয়েছে। জানালাগুলোর দুটি স্তর। এক স্তরে কাঁচ লাগানো এবং আরেক স্তরে নেট লাগানো। হোস্টেল যখন নির্মিত হয় তখন থেকেই দরজা-জানালাগুলো একই রকম ছিল এবং এখনো একই রকম আছে। শুরু থেকেই জানালায় এবং বারান্দায় গ্রিল লাগানো ছিল না। এই হলে ১৩০ জন শিক্ষার্থী থাকতো। আমার সাথে ২জন সহকারী হল সুপার রয়েছেন। দুর্ঘটনার দিন তারা সবাই নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন।”

শেখ সাদিকুর রহমানের মৃত্যু সংক্রান্ত বিষয়ে অধ্যক্ষ আবদুল মতিন হাওলাদার বলেন, “যেহেতু বিষয়টি নিয়ে মামলা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে যা বেরিয়ে আসবে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শেখ সাদিকুর রহমানের ভাই মামলার বাদী মাহবুবুবর রহমান এই প্রতিনিধিকে বলেন, “ভাইয়ের শোকে আমরা পরিবারের সবাই অত্যন্ত কাতর ছিলাম। আমরা ধারণা করছি আমার ভাই হত্যার শিকার হয়েছে। পরিবারের সিদ্ধান্তে আমরা কাপ্তাই থানায় মামলা করেছি। আশা করি সঠিক তদন্ত হবে এবং প্রকৃত দোষী শনাক্ত হবে।”

যিনি অপরাধ করেছেন এবং যার বা যাদের কারণে তরতাজা একজন মেধাবী ছাত্রকে অকালে নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং শাস্তি দাবি করেন তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবনজের মামলা থেকে বাবুলের অব্যাহতি
পরবর্তী নিবন্ধস্পিকারের হাত থেকে জাতীয় মৎস্য পদক গ্রহণ করলেন চন্দনাইশ উপজেলা চেয়ারম্যান